নন্দীগ্রাম: একসময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক পালাবদলের পরও নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার ইঙ্গিত দিল সিপিএম। ২০২৬ সালের বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফলে নন্দীগ্রামে বামেদের ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১২ রাউন্ড গণনা শেষে সিপিএম প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরির ঝুলিতে এসেছে ৫ হাজার ভোট। গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এই বৃদ্ধি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মূল লড়াই ছিল বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে। সেই নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি পেয়েছিলেন ২,৯৭৭টি ভোট। ভোটের শতাংশ ছিল ১.১৯। কিন্তু উপনির্বাচনের গণনায় ১২ রাউন্ডের পর বামেদের ভোট বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজারে। একই প্রার্থীকে ফের ময়দানে নামিয়ে এই ফল বাম শিবিরের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী এবং সিপিএমের মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সেই নির্বাচনে মীনাক্ষী পেয়েছিলেন ৬,২৬৭টি ভোট, যা মোট ভোটের ২.৭৭ শতাংশ। সেই পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা করলে বোঝা যায়, নন্দীগ্রামে বামেদের ভোটের ওঠানামা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়।
নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৭ সালে জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে ১৪ জন গ্রামবাসীর মৃত্যুর ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে বড় মোড় এনে দিয়েছিল। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা রাজ্যে। সেই আন্দোলন পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে ওঠে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার ২০২৬ সালের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বলে প্রাথমিক ফলাফলে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, এই উপনির্বাচনে কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থানে এবং সিপিএম তৃতীয় স্থানে রয়েছে। গণতান্ত্রিক তৃণমূল রয়েছে তালিকার শেষ দিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল এই কেন্দ্রে কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামের ফলাফল একদিকে যেমন বিজেপির বড় জয়ের ছবি তুলে ধরছে, অন্যদিকে সিপিএমের ভোট বৃদ্ধিও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এই একটি কেন্দ্রের ফল থেকেই রাজ্যজুড়ে বামেদের ভোটব্যাঙ্ক ফিরে আসছে বলে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না। আগামী দিনের নির্বাচনে এই ভোটের প্রবণতা কতটা বজায় থাকে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
