কলকাতা: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে বিজেপির জয়ের আবহে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে কল্যাণকে নিশানা করে একের পর এক কটাক্ষ ছুড়ে দেন তিনি। এমনকি কল্যাণের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, “সন্ধ্যার পরে তো স্থলে থাকেন না, জলে থাকেন।” শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটারদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। দুই কেন্দ্রেই বিজেপির বড় জয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি দলের কর্মী-সমর্থকদের অভিনন্দন জানান। তবে সাংবাদিক বৈঠকের এক পর্যায়ে রাজনৈতিক সহকর্মীদের নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের প্রসঙ্গ উঠে আসে। আর সেখান থেকেই তৃণমূল সাংসদকে সরাসরি আক্রমণ করেন শুভেন্দু।
নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যতক্ষণ কেউ বিধায়ক রয়েছেন, ততক্ষণ তিনি তাঁর সহকর্মী। তাই তাঁকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার কোনও প্রশ্ন নেই। এরপরই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, কল্যাণ বারবার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কটাক্ষ করছেন, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
‘আমাকে ব্যঙ্গ করেও আটকানো যাচ্ছে না’
কল্যাণের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, তাঁকে ব্যঙ্গ করা হলেও তাঁর রাজনৈতিক অগ্রগতি থামানো যাবে না। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি দাবি করেন, তিনি অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছেন। একইসঙ্গে বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে নিয়েও কল্যাণের মন্তব্যের সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর বক্তব্য, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে কাউকে হেয় করা উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, কল্যাণ বিভিন্ন সময়ে এমন আচরণ করেছেন, যা রাজনৈতিক সৌজন্যের সীমা অতিক্রম করে।
মৃদঙ্গ বাজানো নিয়ে কটাক্ষের জবাব
এদিন নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও আচার-অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, তিনি হিন্দু পরিবারের সদস্য এবং ছোটবেলা থেকেই মৃদঙ্গ, খঞ্জনি ও শঙ্খের সঙ্গে পরিচিত। স্নানের পর গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
শুভেন্দুর অভিযোগ, রেজিনগরে তাঁর মৃদঙ্গ বাজানো নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যঙ্গ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গৌড়ীয় মঠে গিয়ে রাধাষ্টমী পালন করেছেন। তাঁর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে কটাক্ষ করার অধিকার কারও নেই বলেও কার্যত বার্তা দেন তিনি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিজেপির জয়ের পর শুভেন্দুর এই আক্রমণ রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল। এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কী প্রতিক্রিয়া জানান।
