মুর্শিদাবাদ: রেজিনগর উপনির্বাচনে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। আর ভোটের ফল প্রকাশের পরেই ২০২৯ সালের পর ভারত ছেড়ে দুবাইয়ে থাকার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন নওদার বিধায়ক। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দেশ ছাড়ার কথা বললেও, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
শুক্রবার রেজিনগর উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের সময় দেখা যায়, হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ গণনার একাধিক পর্যায়ে পিছিয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ক্রমশ বাড়তে থাকে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে বিজেপির জয় হুমায়ুনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ভোটের আগে রেজিনগর কেন্দ্র নিজেদের দখলে রাখার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন হুমায়ুন। কিন্তু ফলাফল তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। ভোটের দিন পুলিশ তাঁকে আটক করেছিল। পরে রাতে থানা থেকে মুক্তি পান তিনি। এরপর থেকেই ভোটের ফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে।
‘২০২৯-এর পর দুবাই চলে যাব’
শুক্রবার হুমায়ুন কবীর বলেন, “২০২৯ পর্যন্ত ভারতে থাকব। ২৯-এর পরে ভারতবর্ষ থেকে চলে গিয়ে অন্য দেশে, ওই দুবাইয়ে থাকব। ১০ বছরের ভিসা নিয়ে দুবাই চলে যাব।” তবে তাঁর এই ঘোষণার অর্থ এখনই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো নয়। বরং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি। সেই প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে হুমায়ুন বলেন, “আর ২০২৯ সালের ভোটে যদি অধীর চৌধুরী ভোটে দাঁড়ায়, ওকে আরেকবার হারানো।” অর্থাৎ, একদিকে ২০২৯ সালের পর দুবাইয়ে থাকার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি, অন্যদিকে তার আগে লোকসভা নির্বাচনে লড়ার সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন।
বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে কী বললেন?
মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দুবাই যাওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে মসজিদ নির্মাণের কাজ কীভাবে যুক্ত থাকবে, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এই মুহূর্তে তাঁর প্রধান কাজ বাবরি মসজিদ তৈরি করা। নির্মাণের কাজ শেষ হলেই তিনি দুবাই যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন বলে স্পষ্ট করেছেন।
ভোটে হারের পর পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ
রেজিনগরে ভোটের দিন তাঁকে আটক করার ঘটনা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে প্রায় ১২ ঘণ্টা আটকে রেখেছিল, যাতে তিনি ভোটকেন্দ্রের বাইরে থেকে কোনও অনিয়মের প্রতিবাদ করতে না পারেন। পুলিশের বিরুদ্ধে ভোট লুটে সহায়তা করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তবে তাঁর এই অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ বা পুলিশের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, রেজিনগরের নির্বাচনী ফলের পর হুমায়ুন কবীরের দুবাই যাওয়ার পরিকল্পনা, বাবরি মসজিদ নির্মাণ এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে লড়ার ইচ্ছা—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা এখন দেখার।
