শিল্পায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যে এবার তৈরি হতে চলেছে আমুলের অত্যাধুনিক দই উৎপাদন কেন্দ্র, যা সংস্থার দাবি অনুযায়ী বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কারখানা হতে চলেছে। রবিবার কলকাতার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
জানা গিয়েছে, হাওড়ার সালকিয়া ফুড পার্কে গড়ে উঠবে এই ডেয়ারি প্ল্যান্ট। প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি হওয়া এই কারখানায় প্রতিদিন ১০ লক্ষ কেজি দই, লস্যি, সরবত এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এটি হবে আমুলের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মালিকানাধীন ডেয়ারি প্ল্যান্ট।
শিল্পমহলের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধ শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানেরও নতুন সুযোগ তৈরি হবে। সূত্রের খবর, গুজরাটের একটি সংস্থা দু'দফায় এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করবে। ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গেও আমুলের বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর শিল্পায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি হুগলির ডানকুনিতে লাক্স কোজির বিনিয়োগ এবং বাঁকুড়ার মেজিয়ায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর এবার আমুলের এই প্রকল্প শিল্প বিনিয়োগের ধারাবাহিকতায় নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে অন্যতম বৃহৎ সংস্থা আমুল। প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ লিটার দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি করে সংস্থাটি। নতুন উৎপাদন কেন্দ্র চালু হলে উৎপাদন ও সরবরাহ ক্ষমতা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে আমুল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ২০২৫ সালেই, যখন তৎকালীন রাজ্য সরকারের সময়ে সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে।