কলকাতা: উৎসবের মরশুম শুরুর আগেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, বিধবা ভাতা এবং বার্ধক্য ভাতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানাল রাজ্য সরকার। একইসঙ্গে একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা নেওয়া উপভোক্তাদের এবার একটি প্রকল্প বেছে নিতে হবে। অর্থাৎ, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের পাশাপাশি বিধবা বা বার্ধক্য ভাতার সুবিধা একসঙ্গে নেওয়া যাবে না বলে সরকারি নির্দেশে জানানো হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যাঁরা বর্তমানে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের পাশাপাশি বিধবা ভাতা বা বার্ধক্য ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের যে কোনও একটি প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কোন প্রকল্পের সুবিধা তাঁরা চালিয়ে যেতে চান, তা লিখিতভাবে জানাতে হবে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাকে।
এর জন্য নির্দিষ্ট ফর্মের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই ফর্ম পূরণ করে নির্ধারিত পোর্টালে আপলোড করতে হবে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার শেষ সময় ২৯ সেপ্টেম্বর। ফলে যাঁরা একইসঙ্গে একাধিক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের দ্রুত নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশেষ করে বিধবা এবং প্রবীণ উপভোক্তাদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এতদিন যাঁরা একাধিক প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে আসছিলেন, তাঁদের এবার একটি সুবিধা বেছে নিতে হবে। ফলে কোন প্রকল্পটি তাঁদের জন্য প্রযোজ্য থাকবে, তা নির্ধারণ করেই প্রয়োজনীয় ফর্ম জমা দিতে হবে।
জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকদের কাছেও নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের বিষয়টি জানানো হবে বলে খবর।
বর্তমানে রাজ্যের বিধবা ভাতা ও বার্ধক্য ভাতা প্রকল্পে মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতদিন কিছু উপভোক্তা একইসঙ্গে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার এবং বিধবা বা বার্ধক্য ভাতার সুবিধা নিচ্ছিলেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই দ্বৈত সুবিধা আর থাকবে না।
অন্যদিকে, উৎসবের মরশুমের আগে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা নিয়েও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যোগ্য উপভোক্তাদের জন্য পুজোর আগেই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। পাশাপাশি প্রতি মাসের নির্দিষ্ট দিনে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়েছে।
তবে একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় উপভোক্তাদের এখন নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নাকি বিধবা বা বার্ধক্য ভাতা কোন প্রকল্পের সুবিধা তাঁরা রাখতে চান, তা নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই প্রশাসনকে জানাতে হবে।
তবে কোনও উপভোক্তার ক্ষেত্রে ঠিক কোন প্রকল্প প্রযোজ্য হবে এবং আবেদন বাতিল বা সুবিধা বন্ধ করার প্রক্রিয়া কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশই চূড়ান্ত বলে ধরা হবে। তাই সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
