রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল ছেড়ে একাধিক নেতা-নেত্রীর শিবির বদলের জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই আবহে এ বার তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা শ্যামপুকুরের প্রাক্তন বিধায়ক শশী পাঁজাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা।
শনিবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির কাছেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে যান শশী। সূত্রের খবর, সেখানে কাকলির সঙ্গে প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠক হয় তাঁর। উল্লেখযোগ্য ভাবে, কাকলি তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ ২০ সাংসদের অন্যতম, যাঁরা ইতিমধ্যেই এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন।
যদিও ক্লিনিকে যাওয়ার কারণ হিসাবে শশী জানিয়েছেন, তিনি ‘এমনিই’ গিয়েছিলেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর এই সাক্ষাৎকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। দু’জনেই পেশায় চিকিৎসক হলেও বর্তমানে কেউই চিকিৎসা করেন না।
এর মধ্যেই রবিবার সকালে কাকলির পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার সমাজমাধ্যমে দাবি করেন, “শশী পাঁজা খুব শীঘ্রই তৃণমূল ছাড়তে চলেছেন।” পরে অবশ্য সেই পোস্ট মুছে দেওয়া হয়। শশীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
প্রসঙ্গত, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুকুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর কাছে ১৪,৬৩৩ ভোটে পরাজিত হন তিন বারের বিধায়ক শশী পাঁজা। ভোটের পর তাঁকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে খুব বেশি দেখা না গেলেও তাঁর কন্যা পূজা পাঁজাকে ২১ জুলাইয়ের তৃণমূলের সমাবেশে দেখা গিয়েছিল। ফলে শশী এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ সেই সমীকরণ নিয়েই নতুন প্রশ্ন তুলে দিল।




