ধৃত জঙ্গি হামিম মন্ডলের সমস্ত নাশকতামূলক চক্রান্তের ছক ভেস্তে দিল 'বেঙ্গল এসটিএফ'।প্রথমে তাকে, তারপর তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঠিক তারপরেই হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড এলাকায় আচমকা অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে আদিত্য রাই নামের এক যুবককে। ধৃত আদিত্য উমেশচন্দ্র কলেজের বিকম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। একই সঙ্গে সে ছিল হামিম মণ্ডলের সহযোগী। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে,আদিত্য মূলত হামিম মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করত।
এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।তদন্তে উঠে আসে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। ১)মন্ত্রী ও একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির গতিবিধির ওপর নজর রাখত আদিত্য। ২) রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং তাঁর ছেলেকে অপহরণ ও খুনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে আদিত্যর বিরুদ্ধে। মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের নানা গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সে জঙ্গি নেটওয়ার্কের উচ্চপদস্থদের পাঠাত। ৩) এই চক্রের সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ‘আইএসআই’ (ISI) এবং আবিদ জাঠ নামের এক পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সরাসরি যোগ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ধৃত অর্পিতা সরকারকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন নেতা ও আমলাদের থেকে গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হতো। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামিম নিউটাউনে থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াতের পথও রেকি করেছিল।
উল্লেখ্য, মন্ত্রী উমেশ রাইকে পাকিস্তান থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়ার পর এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে এসটিএফ। সেই সূত্র ধরেই একের পর এক গ্রেফতারি সম্ভব হয়। রবিবার রাতে গ্রেফতারের পর সোমবার পুলিশ আদিত্যর বাড়িতে তল্লাশি চালায় ও পরিবারের সাথে কথা বলে। তবে আদিত্যর মায়ের দাবি, তাঁর ছেলে পড়াশোনা নিয়েই থাকত, এই বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। পুরো চক্রান্ত ও হানিট্র্যাপ চক্রের গভীরে পৌঁছাতে এবং আর কারা এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত, তা জানতে আদিত্যকে সোমবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।