লড়াইটা ছিল কঠিন, কিন্তু যে দলে স্বয়ং ভগবান খেলেন, সেই দলের ভাগ্য রচনা করেন স্বয়ং বিধাতা। তাই এক্সট্রা-টাইমে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে সেমির রাস্তা পাকা করে নিল আর্জেন্টিনা। সেই সঙ্গে লিওনেল মেসির দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন এখনও অটুট। তবে সেই স্বপ্নের পথে আরেকটি কঠিন পরীক্ষাও উতরে যেতে হল আর্জেন্টিনাকে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় লড়াই করে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল লিওনেল স্কালোনির দল। এই জয়ে যেমন ছিল মেসির জাদু, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ এবং বদলি সাবস্টিটিউট হিরো হুলিয়ান আলভারেজ।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় আর্জেন্টিনাকে। প্রথমার্ধেই কর্নার থেকে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের দশম অ্যাসিস্টের নজির গড়েন মেসি। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপে অ্যাসিস্টের সংখ্যায় কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনাকেও পিছনে ফেলে দেন তিনি।
তবে গোলের পর থেকেই ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে সুইজারল্যান্ড। আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের ক্লান্তির সুযোগ নিয়ে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে সুইসরা। প্রথমার্ধেই কয়েকবার গোলের মুখ খুলে ফেলতে পারত তারা। কিন্তু প্রতিবারই দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। বিশেষ করে ৪১ মিনিটে একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে তাঁর অসাধারণ সেভ আর্জেন্টিনাকে বড় বিপদ থেকে বাঁচায়।
দ্বিতীয়ার্ধেও সুইজারল্যান্ডের দাপট অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত ৬৭ মিনিটে দুর্দান্ত দলগত আক্রমণ থেকে এনডয়ের গোলে সমতা ফেরায় তারা। ম্যাচ তখন পুরোপুরি সুইসদের দিকেই ঝুঁকছে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু ৭২ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে ব্রিল এমবোলো মাঠ ছাড়তেই ১০ জনে নেমে যায় সুইজারল্যান্ড। সংখ্যাগত সুবিধা পেলেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও সুইস রক্ষণ ভাঙতে হিমশিম খাচ্ছিল আর্জেন্টিনা। একসময় মনে হচ্ছিল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হবে টাইব্রেকারে। ঠিক সেই সময়ই সামনে আসেন হুলিয়ান আলভারেজ। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর দুর্দান্ত শটে বল জড়িয়ে যায় জালে। সেই গোলেই কার্যত সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যায় আর্জেন্টিনার। এরপর লাউতারো মার্টিনেজ আরও একটি গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করে লা আলবিসেলেস্তে।
নকআউট পর্বের টানা তিন ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েও জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। কখনও মেসির অনবদ্য সৃজনশীলতা, কখনও দিবু মার্টিনেজের দুরন্ত গোলরক্ষা, আবার কখনও আলভারেজের মুহূর্তের জাদু—সব মিলিয়েই এগিয়ে চলেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। সেই মহারণে জিততে পারলেই দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের আরও একধাপ কাছে পৌঁছে যাবেন লিওনেল মেসিরা।