স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা কি এ বার জাতীয় ক্রীড়া আইনের আওতায় আসবে? বিসিসিআই এবং দেশের সমস্ত রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক প্রশ্নে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ সরাসরি জানতে চেয়েছে, বিসিসিআই ও রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলিকে ২০২৫ সালের ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্ন্যান্স অ্যাক্টের আওতায় কেন আনা হবে না? একই সঙ্গে সংস্থাগুলির পদাধিকারীদের চাকরির মেয়াদ ও পরিষেবার শর্তও ওই আইনের অধীনে আনা উচিত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত।
দীর্ঘ দিন ধরেই বিসিসিআইয়ের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। ২০১৪ সাল নাগাদ শুরু হওয়া সেই মামলায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। এর আগে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে সংস্কারের পথ দেখাতে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি আর এম লোধার নেতৃত্বে একটি কমিটিও গড়েছিল শীর্ষ আদালত। সেই কমিটির অন্যতম দায়িত্ব ছিল বিসিসিআইয়ের জন্য একটি নতুন সংবিধান এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রস্তাব তৈরি করা। এ বার ২০২৫ সালের নতুন আইনের প্রেক্ষিতে সেই পুরনো বিতর্কই যেন আরও বড় পরিসরে ফিরে এল।
মঙ্গলবারের শুনানিতে বেঞ্চ বিসিসিআই এবং বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার আইনজীবীদের বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মক্কেলদের সঙ্গে আলোচনা করে অবস্থান জানাতে বলেছে। অর্থাৎ, এখনই কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের গুরুত্ব যথেষ্ট। কারণ, আইনটি কার্যকর হলে ক্রিকেট প্রশাসনের বিভিন্ন পদে থাকা কর্তাদের মেয়াদ, পরিষেবার শর্ত এবং প্রশাসনিক কাঠামো একটি অভিন্ন আইনি কাঠামোর মধ্যে চলে আসতে পারে। এত দিন বিসিসিআই নিজস্ব সংবিধান ও নিয়মের ভিত্তিতে পরিচালিত হলেও এই প্রশ্ন তার প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্কের দরজা খুলে দিয়েছে।
বিসিসিআই বিশ্বের অন্যতম ধনী তথা প্রভাবশালী ক্রিকেট বোর্ড। ফলে তার প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং পদাধিকারীদের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ সেই বিতর্ককেই আরও তীব্র করল। এখন নজর পরবর্তী শুনানিতে। বিসিসিআই এবং রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলি ২০২৫ সালের স্পোর্টস গভর্ন্যান্স আইনের আওতায় আসার প্রশ্নে কী অবস্থান নেয়? শীর্ষ আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপেই পরিষ্কার হতে পারে, ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন আইনি অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে কি না।