ভোরের অন্ধকারে কয়লা খনিতে হানা দুষ্কৃতিদের। পূর্ব বর্ধমানের অন্ডালে ECL- এর একটি কয়লা খনিতে ভোররাতে দুষ্কৃতী হামলার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার, পড়াশকোল ইস্ট কোলিয়ারি এলাকার ওই কয়লা খনিতে অস্ত্র হাতে একদল দুষ্কৃতিতে ঢুকে কর্মীদের ভয় দেখিয়ে লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, ডিউটিতে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের বেঁধে রাখা হয়। খনির হাজিরাবাবু বা রেজিস্ট্রার এবং লাইটম্যানকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর, তাঁদের কাছ থেকে নগদ টাকা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। শুধু তাই নয়, খনির ভিতরে থাকা টেলিফোনও ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
ডিউটিতে থাকা শ্রমিক রাজীব মাহাতোর দাবি, ‘দুষ্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে ভয় দেখাতে থাকে। তার পরে নগদ টাকা ও মোবাইল কেড়ে নেয়। এমনকী খনির ভিতরে থাকা টেলিফোনও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।’ ফলে, জরুরী প্রয়োজনে যোগাযোগের পথও কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর থেকেই কোলিয়ারির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শ্রমিকদের ক্ষোভ, রাতে ডিউটিতে এসে যদি এভাবে হামলার মুখে পড়তে হয়, তাহলে তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে? ECL- এর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা CLSF এর নজরদারি নিয়েও উঠেছে বড় প্রশ্ন।
খনি শ্রমিক সংগঠনের নেতা ভগবান দাসের দাবি, প্রায় ৩৪ বছর পর কোলিয়ারিতে এমন ঘটনা ঘটল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দুষ্কৃতিদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় খনি চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।