কলকাতা: এবার লেখকের ভূমিকায় সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা যাদবপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী। স্বাধীনতা আন্দোলন এবং বাংলা ভাগের ইতিহাস নিয়ে তাঁর লেখা নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। শনিবার কলেজ স্ট্রিটের এনবিএ দপ্তরে ‘দেশপ্রেমের খতিয়ান, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বাংলা ভাগ’ বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হয়। বইটি প্রকাশ করেন প্রবীণ বাম নেতা বিমান বসু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে সুজন চক্রবর্তী বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে বহু মানুষ সেই স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে ইতিহাসকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাংলা ভাগের ইতিহাসের তথ্য মানুষের সামনে তুলে ধরতেই তিনি বইটি লিখেছেন।
বইয়ের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বলতে গিয়ে সুজন চক্রবর্তী ‘বন্দে মাতরম’ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, যারা বর্তমানে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বেশি উৎসাহ দেখাচ্ছেন, তাঁদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে স্বাধীনতা সংগ্রামে কারা জেলে গিয়েছিলেন বা ফাঁসির মঞ্চে উঠেছিলেন, সেই ইতিহাসও দেখা প্রয়োজন। বইটি প্রকাশ করে বিমান বসু বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি ও ব্যক্তির ভূমিকা বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলা ভাগের প্রসঙ্গেও বইয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নিজের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিমান বসু কাশ্মীর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ছোটবেলায় একটি সভায় তিনি কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ—এই বক্তব্য শুনেছিলেন। পরে বড়দের কাছ থেকে কাশ্মীরের ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন। অনুষ্ঠানে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বইটিকে তথ্যনির্ভর বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বাধীনতা আন্দোলন এবং বাংলা ভাগের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ।
সেলিম আরও বলেন, দেশকে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট মানচিত্র দিয়ে বোঝা যায় না। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, আস্থা এবং দীর্ঘদিনের সভ্যতার ধারাবাহিকতার সঙ্গেও দেশের ধারণা যুক্ত। বাংলার জন্ম ও ইতিহাস নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যে আলোচনা করছে, তারও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাধীনতা আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য রাখেন সেলিম। তাঁর দাবি, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে বামপন্থীরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছে। একই সঙ্গে তিনি আরএসএসের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বই প্রকাশের অনুষ্ঠান ঘিরে কলেজ স্ট্রিটে সিপিএমের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল। স্বাধীনতা আন্দোলন, বাংলা ভাগ এবং দেশপ্রেমের ধারণাকে কেন্দ্র করে সুজন চক্রবর্তীর লেখা বইটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
