হাবিবুর রহমান, ঢাকা: বাংলাদেশজুড়ে চলমান মারণঘাতী হামের বাড়-বাড়ন্তের পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের শেষার্ধে ও অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ হতে পারে বলে সতর্ক বার্তা জারি করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা: এম এ মুহিত। ঢাকায় রিপোর্টারস ইউনিটিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণার পর এবার নিজের হাতে বিষয়টি তুলে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিনমাসব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটা সবার। তাই দেশকে সবাই মিলে গড়ে তুলতে হবে। সকলে মিলে চেষ্টা করলে দেশের পরিবর্তন সম্ভব। প্রতিদিন এক ঘণ্টা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে সময় দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
এদিকে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু ১ হাজার ১৯ জনে দাঁড়াল। মৃত্যুর সারির তালিকায় অধিকাংশ শিশু। গত একদিনে নতুন করে ৮৫৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৮১৬ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৮৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। শুক্রবার হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর, সর্দি, কাশি বা শরীরে র্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সংক্রমণ যাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অসুস্থ ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় সতর্কতার মধ্যে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রকোপের কথা মাথায় রেখে বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় জল জমতে না দেওয়ার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের তরফে একদিকে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে হামের পরিস্থিতির উপরও নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও রোগ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার পর জমে থাকা জল দ্রুত পরিষ্কার করা, বাড়ির আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রোগের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করাই এই সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাম ও ডেঙ্গু,দুই রোগের ঝুঁকি একসঙ্গে বাড়তে থাকায় আগামী কয়েক সপ্তাহ জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।




