কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দিল সরকার। সোমবার থেকেই আমদানি করা যাবে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এমন তথ্য জানিয়েছেন। এরআগে বাংলাদেশে লঙ্কার দাম পাওয়ায় পাশ্ববর্তী ভারত থেকে দ্রুততার সঙ্গে আমদানি করে বাজার স্বাভাবিক করা হয়। এবারও হয়তো ভারত থেকে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সপ্তাহ খানেক আগে ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয় বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। আচমকাই বাজারে আগুন। সবজি কিনতে কার্যত চোখের জল বেরোচ্ছে সে দেশের আমজনতার। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাঁচালঙ্কা বিকোচ্ছে ৪০০ টাকা কেজি দরে। জানা গিয়েছে, প্রবল বর্ষণে জল জমে লঙ্কার ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলেই মূল্যবৃদ্ধি। রাজধানী ঢাকা-সহ অধিকাংশ জেলার খুচরো বাজারে কাঁচালঙ্কার দাম প্রতি কেজি ৪০০ টাকা। গত সপ্তাহে লঙ্কার দাম প্রতি কেজি ১৮০ থেকে বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছিল। আর এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিগুণ হল দাম।
বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, বন্যা ও বৃষ্টিপাতের কারণে সবজির খেতে পচন ধরেছে। তাই কাঁচা লঙ্কা-সহ শাকসবজির উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আজ রবিবার রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, কাঁচামরিচের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে
সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, কাঁচামরিচ আমদানির ওপর বিদ্যমান কর কমানো হচ্ছে এবং কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে। ফলে দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কাঁচামরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে এক কেজি কাঁচামরিচ কিনতে ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা খরচ হচ্ছে। দুই–তিন আগে এ দর ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
কাঁচা মরিচের উচ্চ দামের কারণে সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়ে। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অত্যাবশ্যকীয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় (খাদ্য ও কৃষি) পণ্যের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণসংক্রান্ত সভায় অংশ নেন বাণিজ্য ও কৃষিমন্ত্রী এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী। পরে সেখান থেকে তারা সরেজমিনে শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনে যান।