কয়েক মাস আগেই যে বিমানবন্দরের নাম জড়িয়েছিল এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার সঙ্গে, রবিবার ফের সেই বারামতী। আবার বিমান দুর্ঘটনা। এ বার অবশ্য ছবিটা কিছুটা স্বস্তির—প্রশিক্ষণ বিমান ভেঙে পড়লেও প্রাণহানির খবর নেই। প্রশিক্ষণরত পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। কিন্তু দুর্ঘটনার খবর ছড়াতেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বারামতী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং সেখানে প্রশিক্ষণ বিমান চলাচলের ব্যবস্থা।
কারণ, চলতি বছরের জানুয়ারিতেই এই বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল একটি Learjet। সেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল মহারাষ্ট্রের তৎকালীন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার-সহ বিমানে থাকা পাঁচ জনের। সেই ঘটনার তদন্ত, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং অবতরণের পরিস্থিতি নিয়ে এখনও আলোচনা থামেনি। তার মধ্যেই একই এলাকায় ফের বিমান দুর্ঘটনা।
এ বার প্রশিক্ষণ বিমান
প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, রবিবার বারামতী বিমানবন্দরের কাছে একটি প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রশিক্ষণ চলাকালীন বিমানটি সমস্যায় পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন উদ্ধারকারী ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মীরা। সবচেয়ে বড় স্বস্তি, প্রশিক্ষণরত পাইলট প্রাণে বেঁচেছেন। তাঁর আঘাত কতটা গুরুতর, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। দুর্ঘটনার পরই বিমানটির চারপাশ ঘিরে ফেলা হয়। কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তা জানতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
যান্ত্রিক ত্রুটি, না অন্য কোনও কারণ?
বিমানটি ঠিক কোন মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যান্ত্রিক গোলযোগ হয়েছিল কি না, অবতরণের সময় কোনও সমস্যা তৈরি হয়েছিল কি না, নাকি অন্য কোনও কারণে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমান দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে যেমনটা হয়, এ ক্ষেত্রেও বিমানের কারিগরি অবস্থা, পাইলটের প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া, রানওয়ের পরিস্থিতি এবং অবতরণের সময়কার গতিবিধি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
ফিরে এল জানুয়ারির সেই ভয়াবহ স্মৃতি
বারামতীর নাম শুনলেই এ বার প্রথমেই মনে পড়ছে ২৮ জানুয়ারির দুর্ঘটনার কথা। সেদিন বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল Learjet 45XR। বিমানে ছিলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার। বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনায় অজিত পওয়ার-সহ বিমানের পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। সেই দুর্ঘটনার পর বারামতী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল। বিমানবন্দরের অবতরণ ব্যবস্থা, পাইলটের সিদ্ধান্ত, আবহাওয়া এবং বিমান পরিচালনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হয়। সেই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই ফের একটি বিমান দুর্ঘটনা। যদিও দুই দুর্ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে এমন তথ্য এখনও নেই, কিন্তু একই বিমানবন্দর এলাকায় ফের দুর্ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ বাড়াটাই স্বাভাবিক।
বারামতীর বিমান চলাচল নিয়ে প্রশ্ন
বারামতী মূলত আঞ্চলিক বিমান চলাচল এবং প্রশিক্ষণমূলক উড়ানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিমান প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে নিয়মিত ওঠানামা করে ছোট বিমান। ফলে এখানে নিরাপত্তার প্রতিটি স্তর গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণ বিমানের ক্ষেত্রে পাইলটরা প্রশিক্ষণরত থাকেন। বিমান পরিচালনা, অবতরণ, জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া—সব কিছুই প্রশিক্ষণের অংশ। কিন্তু প্রশিক্ষণের সময় কোনও বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়লে তার কারণ খুঁটিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে একই এলাকায় যদি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে একাধিক বিমান-সংক্রান্ত দুর্ঘটনা ঘটে, তা হলে বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
আগের দুর্ঘটনার পর কী হয়েছিল?
অজিত পওয়ারের বিমান দুর্ঘটনার পর তদন্তে একাধিক সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হয়েছিল। বিমানটির প্রযুক্তিগত অবস্থা থেকে শুরু করে আবহাওয়া এবং অবতরণের সময়কার পরিস্থিতি—সবই তদন্তের অংশ ছিল। সেই দুর্ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা। তার মধ্যেই রবিবারের ঘটনা। এ বার বড় পার্থক্য একটাই—প্রাণহানি হয়নি। আর সেই কারণেই দুর্ঘটনার ভয়াবহতার মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
প্রশিক্ষণার্থী বেঁচে গেলেও প্রশ্ন থাকছে
দুর্ঘটনার পর সাধারণত তদন্তকারীরা কয়েকটি বিষয় বিশেষ ভাবে খতিয়ে দেখেন—বিমানটি উড়ানের আগে যথাযথ ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, প্রশিক্ষণরত পাইলটকে কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, দুর্ঘটনার ঠিক আগে বিমানটির গতিবিধি কী ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি রানওয়ে ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হতে পারে। এই তদন্তের ফলাফলই বলবে, দুর্ঘটনাটি নিছক যান্ত্রিক বা উড়ান-সংক্রান্ত সমস্যার ফল, নাকি এর পিছনে আরও কোনও কারণ ছিল।