বিশেষ প্রতিবেদন: ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠা এই বড়জোড়াতেই। বড়জোড়া আমার জন্মভূমি, আমার বাড়ি, আমার শিকড়। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে জীবনের ৩০-৩২টা বছর কেটেছে এই বড়জোড়ার পুজোকে কেন্দ্র করেই। ছোটবেলার রঙিন শৈশব, হাজারো নস্টালজিয়া, একটা গ্রামের ধীরে ধীরে মফস্বল হয়ে ওঠা, আর তারপর শিল্পাঞ্চলে পরিণত হওয়ার গল্প সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে আমার প্রিয় বড়জোড়া।
অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল, বড়জোড়ার পুজোকে ঘিরে নতুন কিছু করার, নিজের হাতে প্রিয় জনপদকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার। সেই স্বপ্নের কথায় প্রথম সাড়া দিয়েছিলেন আমাদের প্রিয় সোমনাথ কর দা। আজ থেকে প্রায় চার মাস আগে একটি আলোচনা সভায় এই ভাবনার বীজ বপন হয়েছিল। আজ সেই ভাবনাই বাস্তবের পথে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের উদ্যোগে বড়জোড়া চৌমাথা মোড় থেকে শিবতলা পর্যন্ত রাস্তা আলপনায় সাজিয়ে তোলার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী ৪-৫ দিন ধরে চলবে এই উদ্যোগ।
বড়জোড়ার সমস্ত খুদে শিল্পী থেকে শুরু করে বড়দের কাছে আমার আন্তরিক আহ্বান আসুন, সকলে মিলে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করি। নিজেদের রং, তুলির ছোঁয়া আর সৃজনশীলতায় সাজিয়ে তুলি আমাদের প্রিয় বড়জোড়াকে। এই উদ্যোগ শুধু রাস্তা সাজানোর নয়, এটি আমাদের শিকড়, ঐতিহ্য, ভালোবাসা এবং একসঙ্গে পথ চলার অঙ্গীকার।
তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত করা সম্ভব হতো না আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা ছাড়া।
বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই আমার ভাই, সহযোগী ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের খণ্ড সম্পাদক বিক্রম আইচকে। গত এক সপ্তাহ ধরে ওর নিরলস পরিশ্রম, সময় এবং সহযোগিতা এই কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
কৃতজ্ঞতা জানাই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রখণ্ড সহ-সভাপতি বিষ্ণু চরণ বাজপেয়ীকে তাঁর অদম্য সাহস, উদ্যোগ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা আমাদের এগিয়ে চলার শক্তি জুগিয়েছে। ধন্যবাদ জানাই আমাদের সহযোগী খণ্ড কার্যকর্তা মনোজ দাস ও সৌরভ দাসকে, যাঁরা প্রতিটি পদক্ষেপে পাশে থেকেছেন।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের খণ্ড ও প্রখণ্ডের সমস্ত কার্যকর্তার প্রতি রইল আমার আন্তরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই সোমনাথ কর দাকে, তাঁর সহযোগিতা ও অসীম উদ্যমের জন্য। কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রখণ্ড সভাপতি স্বরূপ সাহা (বাপ্পা দা), সন্তু ভট্টাচার্য (বাপি দা, ভিএইচপি), জেলা সহ-সভাপতি কৃষ্ণ দাস দা (ভিএইচপি) এবং প্রখণ্ড সহ-সম্পাদক অতনু দাস মহাশয়কে। আপনাদের আশীর্বাদ, ভালোবাসা ও সহযোগিতা ছাড়া এই উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করা অত্যন্ত কঠিন হতো।
বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই বড়জোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গোবিন্দ ঘোষ মহাশয়কে। প্রয়োজনের সময় তিনি যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
ধন্যবাদ জানাই আমাদের সংঘের রাষ্ট্রবাদী শক্তির সমস্ত সদস্যকে, যাঁরা রাতভর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই কর্মযজ্ঞকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের শ্রম, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা ছাড়া এই স্বপ্নকে বাস্তবের রূপ দেওয়া সম্ভব হতো না।
সবশেষে, বড়জোড়ার প্রতিটি নাগরিকের প্রতি রইল আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনাদের ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও উৎসাহই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। আপনাদের পাশে পাওয়ার মধ্য দিয়েই আমাদের এই স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলা।
বড়জোড়া শুধু একটি জনপদ নয়, বড়জোড়া আমাদের আবেগ, আমাদের শৈশব, আমাদের পরিচয়। আসুন, সকলে মিলে আলপনার রঙে রাঙিয়ে তুলি আমাদের প্রিয় বড়জোড়াকে।
