নিউজ ডেস্ক: পরিবারের অসাবধানতায় বিছানায় পড়ে থাকা একটি আলপিন গিলে ফেলেছিল মাত্র তিন বছরের শিশু। কিন্তু সেটি গিয়ে আটকে যায় শ্বাসনালীতে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে দ্রুত চিকিৎসা না হলে বড় বিপদ ঘটতে পারত। শেষ পর্যন্ত বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের জটিল অস্ত্রোপচারে প্রাণে বাঁচল ঝাড়খণ্ডের ওই শিশু।
জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা শিশুটির বাড়িতে নতুন জামা-প্যান্ট ভাঁজ করার কাজে ব্যবহৃত একটি আলপিন বিছানায় পড়ে ছিল। খেলতে খেলতে সেটি শিশুটির নজরে আসে এবং কোনওভাবে মুখে চলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন, শিশুটি আলপিনটি গিলে ফেলেছে। বিষয়টি বুঝতে দেরি না করে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
এরপর রবিবার রাতে শিশুটিকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পান, আলপিনটি বিপজ্জনকভাবে শ্বাসনালীর মধ্যে আটকে রয়েছে। ফলে দেরি না করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আলপিনটির অবস্থান। সেটির সূচালো অংশটি উপরের দিকে ছিল। ফলে সামান্য ভুলেও শ্বাসনালীতে গুরুতর আঘাত লাগার আশঙ্কা ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ENT বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পরিকল্পনা করে অস্ত্রোপচার শুরু করেন।
সোমবার সকালে সাধারণ অ্যানাস্থেশিয়া দিয়ে রিজিড ব্রঙ্কোস্কপি করা হয়। চিকিৎসক অসীম সরকার, ঋতম রায় এবং শুভদীপ সর্দারের নেতৃত্বে চিকিৎসক দলের প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত শ্বাসনালী থেকে আলপিনটি বের করে আনা সম্ভব হয়।
চিকিৎসক ঋতম রায় জানান, সাধারণ অ্যানাস্থেশিয়া ব্যবহার করে রিজিড ব্রঙ্কোস্কপির মাধ্যমে আলপিনটি বের করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের সময় শিশুটির শ্বাসনালীতে থাকা আলপিনটির অবস্থান এবং সূচালো অংশের দিক বিশেষভাবে নজরে রাখা হয়েছিল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার শান্তনু সেন জানান, শিশুটির শ্বাসনালীতে অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় আটকে থাকা আলপিনটি বের করা সহজ ছিল না। চিকিৎসকদের দক্ষতায় সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়েছে এবং শিশুটির জীবন রক্ষা করা গিয়েছে।
অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর স্বস্তি ফিরেছে শিশুটির পরিবারেও। চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এই ঘটনা আবারও ছোট শিশুদের আশপাশে সূচ, আলপিন, পিন, কয়েন বা ছোট কোনও ধারালো কিংবা গিলে ফেলার মতো বস্তু ফেলে না রাখার বিষয়ে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা সামনে আনল। বিশেষ করে শিশুদের নাগালের মধ্যে থাকা ছোট জিনিস মুহূর্তের অসাবধানতায় বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
