নিউজ ডেস্ক: এবার বিজেপি-আইএসফ সংঘর্ষে উত্তপ্ত ভাঙড়। ঘটনাটি ঘটেছে ভাঙড় এক নম্বর ব্লকের মাধবপুর থানার সামনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশকর্মীরাও। অভিযোগ, এক পুলিশ অফিসার-সহ মোট চারজন পুলিশকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। শুধু পুলিশ নয়, থানার সামনে দিয়ে যাওয়া পথচলতি সাধারণ মানুষও হামলার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ। আহতদের উদ্ধার করে নলমুড়ি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাঙড়-১ ব্লকের মাধবপুর থানা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, থানার কাছেই বিজেপি এবং আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কী নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায় বলে অভিযোগ। পরে সেই ঘটনা সংঘর্ষের আকার নেয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মাধবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। উত্তেজিত দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন পুলিশকর্মীরা। অভিযোগ, সেই সময়ই পুলিশের উপরেও হামলা চালানো হয়। এক পুলিশ অফিসার-সহ চার পুলিশকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে সংঘর্ষের জেরে থানার সামনের রাস্তায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। অভিযোগ, ঘটনার মধ্যে পড়ে যান কয়েক জন পথচলতি মানুষও। তাঁদের কয়েক জনকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আচমকা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় অনেকেই নিরাপদ জায়গায় সরে যান। পরবর্তীতে ঘটনার খবর পেয়ে আরও পুলিশ বাহিনী এলাকায় পৌঁছয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য মাধবপুর থানা সংলগ্ন এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কী কারণে সংঘর্ষের সূত্রপাত, কারা পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে এবং পথচলতি মানুষদের মারধরের অভিযোগ কতটা সত্যি, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। পুরো ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বিজেপির স্থানীয় এক নেতা বলেন, 'রবিবার ক্যানিং পূর্বে দলের একটি পথসভা ছিল। ঝিঝিরআইট থেকে আমাদের এক কর্মী আসছিলেন। তাঁকে স্থানীয় আইএসএফ কর্মীরা মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। পরে আমাদের দলের কর্মীরা মাধবপুর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে সেখানেও হামলা চালায় আইএসএফ। পুলিশ বাধা দিতে গেলে তাদের উপরেও হামলা হয়।' যদিও বিজেপির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইএসএফ।