কোচবিহার, নিউজ ডেস্ক: হাতে অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পরীক্ষা কেন্দ্রে হাজির পরীক্ষার্থীরা। কেউ শেষ মুহূর্তে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছেন পড়ায়, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। অন্যদিকে, পরীক্ষা কেন্দ্রের গেটের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা গেল অভিভাবকদের । উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ঘিরে সোমবার সকাল থেকে কোচবিহারের বিভিন্ন প্রান্তে ছিল এমনই ব্যস্ততা।
সূত্রে খবর, চলতি বছরে কোচবিহার জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসছেন মোট ২৫ হাজার ২৬১ জন পরীক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ১১ হাজার ১৪২ জন এবং ছাত্রী ১৪ হাজার ১১৮ জন। পরীক্ষার্থীদের জন্য জেলায় মোট ২৪টি মূল পরীক্ষাকেন্দ্র এবং ৯৪ টি ভেন্যু রাখা হয়েছে। পরীক্ষা ঘিরে প্রতিটি কেন্দ্রেই নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাধ্যমিকের পর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়ারা। ফলে তাঁদের মধ্যে যেমন আত্মবিশ্বাসের ছবি দেখা গিয়েছে, তেমনই কিছুটা উদ্বেগের ছবিও পাওয়া গিয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকার আগে অনেকেই শেষবারের মত অ্যাডমিট কার্ড ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে নিচ্ছেন। পরীক্ষা কেন্দ্রের গেটের বাইরে সন্তানদের পৌঁছে দিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে অভিভাবকদেরও।
এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হচ্ছে নতুন সেমিস্টার পদ্ধতিতে। দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা ভাগ করা হয়েছে সেমিস্টার ৩ ও সেমিস্টার ৪ এ। তার মধ্যে সেমিস্টার ৩ এর প্রশ্নে থাকছে বস্তুনিষ্ঠ ধরনের প্রশ্ন। এই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে ওএমআর সিটে। ফলে, পরীক্ষার্থীদের জন্য উত্তর পূরণের ক্ষেত্রেও রয়েছে আলাদা নিয়ম। অন্যদিকে, পরবর্তী সেমিস্টার অর্থাৎ সেমিস্টার ৪-এ বর্ণনামূলক প্রশ্নের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষায় দুই সেমিস্টারের পরীক্ষার পদ্ধতিতে থাকছে পার্থক্য।
একইসঙ্গে, পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারেন সেজন্য পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ, নথিপত্র যাচাই এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের ভিতরের উপস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রথম দিন থেকেই নতুন পদ্ধতিতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ঘিরে কোচবিহারের পরীক্ষা কেন্দ্রে ছিল ব্যস্ততা, উৎকণ্ঠা এবং নতুন অভিজ্ঞতা।