নিউজ ডেস্ক: চাকা ঘুরে আবার যেন সেই গোড়াতেই প্রত্যাবর্তন। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ঘিরে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা থাকলেও শরীরচর্চার প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত যোগাসনের কাছেই ফিরছে পাকিস্তান। তবে সেখানে যোগ চর্চার নামটাই যেন বদলে গিয়েছে! সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ‘মোটরসাইকেল যোগা’ অর্থাৎ বাইক চালকদের কায়দায় যোগাভ্যাস করছেন এক দল মানুষ। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ একটি কাল্পনিক বাইক স্টার্ট দিচ্ছেন। কেউ আবার শরীরচর্চা করছেন রীতিমতো রেসের ভঙ্গিতেই। ভিডিয়োটি দেখে নেটপাড়ায় হাসির রোল উঠলেও, পাকিস্তানে যোগ চর্চার ক্ষেত্রে স্পষ্ট হচ্ছে একটি বড় সামাজিক পরিবর্তনের ছবিও।
দেখুন: https://x.com/dhananjaykaturi/status/2101846560271426043?s=20
পাকিস্তানে যোগের জনপ্রিয়তা অবশ্য এক দিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই সে দেশে কট্টরপন্থীদের একাংশ যোগাসনকে হিন্দু ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করে এর বিরোধিতা করে এসেছে। সেই আপত্তি এড়াতে এক অন্য কৌশল নিয়েছেন স্থানীয় প্রশিক্ষকেরা। যোগের পরিচিত নামের বদলে কোথাও ‘হোলিস্টিক অ্যাওয়ারনেস’, কোথাও ‘ওয়েলনেস’, আবার কোথাও স্রেফ ‘হেলথ এক্সারসাইজ’ বলে চালানো হচ্ছে ক্লাস। অর্থাৎ নাম বদলেছে। কিন্তু শরীরচর্চার পদ্ধতিতে বিশেষ বদল আসেনি। ধর্মীয় বিতর্ক এড়িয়ে সুস্থ থাকার অভ্যাসটুকুই সামনে রাখা হচ্ছে।
এই আপোষের পথেই যোগব্যায়াম ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের জীবনে। অনেক প্রশিক্ষক যোগের আসন ও স্ট্রেচিংয়ের মতো শারীরিক অনুশীলনকে গুরুত্ব দিলেও ধ্যান বা আধ্যাত্মিক অংশটি বাদ রাখছেন। স্থানীয় যোগ আন্দোলন ‘ওয়ে অব নেচার’-এর মতো উদ্যোগও এই প্রবণতাকে আরও ছড়িয়ে দিয়েছে। যোগী হায়দারের মতো প্রশিক্ষকেরা বহু মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ফলে এক সময় যে ব্যায়ামকে ধর্মীয় পরিচয়ের চশমায় দেখা হত, এখন তারই শারীরিক উপকারিতার দিকে নজর বাড়ছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বদল অবশ্য দেখা যাচ্ছে প্রশাসনিক স্তরেই। ইসলামাবাদের ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি শহরের অন্যতম বড় পাবলিক পার্কে সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে যোগের ক্লাস চালু করেছে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত উদ্যোগের গণ্ডি পেরিয়ে যোগ এখন সরকারি পরিসরেও ঢুকে পড়ছে। নাম ‘যোগ’ হোক বা ‘হেলথ এক্সারসাইজ’, ম্যাটের উপর স্ট্রেচিং হোক কিংবা কাল্পনিক মোটরবাইক চালানোর ভঙ্গি— শরীরচর্চার এই পুরনো পদ্ধতিই ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে পাকিস্তানে। নাম বদলেছে, কৌশল বদলেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যোগেই ফিরছে পড়শি দেশ।