কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: যাদবপুরে কালীঘাট-তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর! রবিবার রাতে কার্যালয়ের দরজার তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিস লণ্ডভণ্ড করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় অভিযোগের তীর উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। এবার এই অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, 'পার্টি অফিস ভাঙার মতো সময় বিজেপির নেই। প্রশাসন চালিয়ে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই সরকারের মূল কাজ বলে মন্তব্য করেন তিনি।'
এরপরই বিরোধীদের ভূমিকা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, 'বিরোধীরা নিজেদের রাজনৈতিক জায়গা ধরে রাখতে না পারলে তার দায় শাসক দলের নয়। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিরোধীদের যথেষ্ট জায়গা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। বিরোধীরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করলে তার দায় তাদেরই নিতে হবে। একইসঙ্গে উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়েও আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি বলেন, 'মানুষ যে দিকে রায় দিয়েছেন, উপনির্বাচনেও সেই দিকেই ফল আসবে। আগামী দিনে আরও বিস্তারিত বিষয় ঘোষণার মাধ্যমে জানা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার যাদপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তাণ্ডব চালায় একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, যাদবপুরের কুসুম কাননে সিপিএমের পার্টি অফিসে ভাঙচুর করা হয়। ৯৬ ওয়ার্ডে সিপিএমের শহিদবেদিতেও হামলা চালানো হয়। ১০০ ও ১০২ নম্বর ওয়ার্ডেও তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, বিজয়গড় বাজারে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক দেবব্রতের কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়। বাড়িতে গিয়েও হুমকি এবং তাঁর দাদাকে ধাক্কা মারার অভিযোগ ওঠে দুষ্কৃতী বাহিনীর বিরুদ্ধে। সেখানে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।
এরই মধ্যে রবিবার ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর। কালীঘাট-তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ। কার্যালয়ের ভিতরের আলমারি খুলে তল্লাশি ও ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও তৃণমূল কর্মীদের দাবি। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের স্পষ্ট অভিযোগ, বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই চক্রান্ত করে এই তাণ্ডব চালিয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় বিজেপির কোনও হাত নেই। এটি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল।
ইতিমধ্যে কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় নেতাজিনগর থানায় ইমেলের মাধ্যমে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এখন দেখার কার্যলয় ভাঙচুরের ঘটনায় কারা কারা জড়িত।