শান্তিপুর, নিউজ ডেস্ক: রাত তখন গভীর। বাড়ির এক ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছিলাম পরিবারের সদস্যেরা। আচমকায় অস্বাভাবিক শব্দে ঘুম ভাঙে এক মহিলার। বাইরে বেরোতে গিয়েই ঘটে যায় বিপত্তি, দরজা কোনওভাবেই খোলা যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত কোনওরকমে বাধা সরিয়ে বাইরে বেরিয়ে তিনি যে দৃশ্যের মুখোমুখি হন, তার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না কেউ। রাতের অন্ধকারে তখন লুকিয়ে ছিল এক ভয়াবহ ঘটনার ইঙ্গিত।
নদীয়ার শান্তিপুর থানার নাবলা পঞ্চায়েতের প্রফুল্লনগর ভুতের মেলার পাড়া এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, পঞ্চাশোর্ধ এক গৃহবধূকে ঘরের ভিতরে ইট দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছে। তবে, ঘটনার নেপথে শুধুমাত্রই কি চুরির উদ্দেশ্য ছিল না কি অন্য কোনও কারণ ছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে বারোটা নাগাদ মৃতার বৌমা মৌমিতা বিশ্বাস অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান। বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করতে তিনি বুঝতে পারেন তাদের ঘরের দুটি দরজা বাইরের থেকে মোবাইল চার্জারের তার দিয়ে বাঁধা রয়েছে। এরপর কোনওরকমে সেই তার কেটে বাইরে বেরিয়ে শাশুড়ির ঘরের দিকে ছুটে জান তিনি। ঘরে ঢুকে রক্তাক্ত অবস্থায় শাশুড়িকে বিছানার উপর পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
ঘরের মেঝেতে পড়েছিল একটি ইট। বিছানার উপরে ছড়িয়ে ছিল ভাঙ্গা শাখা এবং দাঁতের অংশ। পরিবারের দাবি হামলাকারীরা বাড়ির দুটি জায়গায় সিঁধও কেটেছিল। ফলে, প্রথমে ঘটনাটি চুরির চেষ্টা মনে হলেও, তা নিয়ে শুরু হয় একাধিক প্রশ্ন। পরিবারের সদস্যের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে ঘটনার পিছনে শুধুমাত্র চুরির উদ্দেশ্য নাও থাকতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, এক ব্যক্তির কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার জন্য আক্রোশ থেকে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে। মৃতার ছেলে অভি বিশ্বাস, বৌমা মৌমিতা বিশ্বাস এবং মেয়ে লক্ষ্মী বিশ্বাস মণ্ডল একই দাবী করেছেন। তবে, তদন্তের স্বার্থে পরিবারের তরফ থেকে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, ঘটনার পর ঘটনার স্থল থেকে একটি হেঁসো উদ্ধার করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। বাড়ির আশেপাশে সিসিটিভি না থাকায় তদন্তে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে, আশেপাশের এলাকার দূরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চুরি, ব্যক্তিগত আক্রোশ নাকি অন্য কোনও কারণ ঠিক কি ঘটেছিল সেই রাতে, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে শান্তিপুর থানার পুলিশ। আপাতত পুলিশের তদন্তের উপর নজর সবার।