নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলা। একের পর এক মামলার জেরে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। সোমবার সকালে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য শোনার পর মামলা দায়েরের অনুমতি দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আগামীকাল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে শুনানি হওয়ার কথা।
শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৭ সালের পুরোনো এক মামলায় গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে হলদিয়া মহকুমা আদালত। পুলিশের দাবি, উনিশ বছর ধরে পলাতক ছিলেন ধৃত কংগ্রেস নেতা। উপনির্বাচনের আগে এই গ্রেফতারি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মামলা দায়ের হয়েছে বলে অভিযোগ।
নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতারির পর বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করেছে খোদ রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, 'এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, গণতন্ত্রের হত্য়া। অবাধ ভোটের প্রতি বিজেপির কোনও আস্থা নেই। তাই তারা কখনও ভোট চুরি, কখনও সরকার চুরি, কখনও দল চুরি করে ক্ষমতা আকঁড়ে থাকতে চায়।' অন্যদিকে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে। তার আগে রক্ষাকবচ দেওয়ার আবেদন করেছেন মিলন প্রধান।
নন্দীগ্রাম বরাবরই রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ভোট নিয়ে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। শুক্রবার নন্দীগ্রামে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয় মমতা-তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। তারপরই সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেস প্রার্থীকে নন্দীগ্রামে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির হয়ে লড়বেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। উপনির্বাচনের আগে সেখানে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও যথেষ্ট উত্তপ্ত। তার মধ্যেই কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে পরপর মামলা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যদিও মামলাগুলিতে কী অভিযোগ রয়েছে এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা আদালতের শুনানিতেই আরও স্পষ্ট হতে পারে। আগামীকালের শুনানিতে মিলন প্রধানের হয়ে কী সওয়াল করা হয় এবং রাজ্যের তরফে কী বক্তব্য রাখা হয়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচ মামলায় মিলনকে কোনও ধরনের রক্ষাকবচ দেওয়া হবে কি না, আপাতত সেই সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে কংগ্রেস শিবিরের।