বহরমপুর, নিউজ ডেস্ক: ফের গ্রেফতার হুমায়ুন কবীরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র আরও এক কর্মী। জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম হায়দার শেখ। শক্তিপুর থানায় হুমায়ুন কবীরের ধর্না চলাকালীন থানার সামনে অভব্য আচরণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। তাঁর গ্রেফতারিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
কারণ, এই গ্রেফতারির ঠিক আগের দিনই পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন নওদার বিধায়ক তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে ভোট লুঠের অভিযোগও তোলেন হুমায়ুন। এর প্রতিবাদে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের প্রচার না করার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। এরই মধ্যে হুমায়ুনের দলের আরও এক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারির পর তাঁকে আদালতে পেশ করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে পুলিশ।
এর আগে জাল নোট এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার হলেন হুমায়ুন কবীরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) রাজ্য সম্পাদক আশিক ইকবাল। একই ঘটনায় বাবলু শেখ নামে আরও এক জনকে গ্রেফতার করেছে হরিহরপাড়া থানার পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে হরিহরপাড়ার গাড়িনামা এলাকায় নাকা চেকিংয়ের সময়ে একটি বোলেরো গাড়ি আটক করে তল্লাশিতে মেলে ৫০০ টাকার ১০৮টি জাল নোট, দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং চার রাউন্ড গুলি। শনিবার ধৃতদের বহরমপুরে সিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক সাত দিনের পুলিশ হেফাজত দিয়েছেন।
এবার হায়দার শেখের গ্রেফতারির খবর সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে AJUP নেতৃত্ব। দলের তরফে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আগেই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। যদিও পুলিশের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় দেখে নয়, নির্দিষ্ট অভিযোগ ও তদন্তের ভিত্তিতেই আইনানুগ পদক্ষেপ করা হচ্ছে। হায়দার শেখের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য এখনও পুলিশের তরফে প্রকাশ্যে আসেনি। ধৃতকে আদালতে পেশ করার পর পুলিশ হেফাজত চাওয়া হবে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে।
অন্যদিকে, উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে বহরমপুর থানায় হাজির হন হুমায়ুন কবীর। শনিবার বিকেলে হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে যায় বহরমপুর থানার পুলিশের একটি দল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় ২৯৯, ১৪৮, ১৫২, ১৯২, ১৯৬(২) এবং ৬১(২) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব রাজনৈতিক চক্রান্তের অংশ বলে দাবি করেছেন হুমায়ুন কবীর।