ভাঙড়, স্নিগ্ধা চৌধুরী: ভাঙড়ে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা। রাতের অন্ধকারে ISF-এর দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার শাকসর এলাকায়। গভীর রাতে পার্টি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তবে এই ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ভাঙড় থানার পুলিশ।
পার্টি অফিসে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রবিবার সকালে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান ISF কর্মী-সমর্থকরা। তাঁরা রাস্তা অবরোধ করায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।
এই ঘটনার সময়েই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এলাকা। জানা গিয়েছে, রবিবার শাকসর এলাকাতেই বিজেপির একটি দলীয় কার্যালয় উদ্বোধনের কর্মসূচি রয়েছে। ফলে ISF পার্টি অফিসে আগুন লাগার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।
এর আগে শনিবার রাতে ভাঙড়ের পোলেরহাট থানার উড়িয়াপাড়া এলাকায় প্রাক্তন ISF নেতা আরাবুল ইসলামের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। আরাবুলের দাবি, বাড়ি ফেরার পথে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে দু’টি বোমা ও ইট ছোড়া হয়। ইটের আঘাতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। যদিও এই ঘটনায় আরাবুলের কোনও আঘাত লাগেনি।
গাড়িতে হামলার পিছনে ISF-এর মদত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন আরাবুল। সম্প্রতি তিনি ISF ছেড়েছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি পরাজিত হন। এরপরই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে এবং তিনি ISF ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আরাবুলের গাড়িতে হামলার অভিযোগের একদিনের মধ্যেই ISF পার্টি অফিসে আগুন লাগার ঘটনা ঘিরে ভাঙড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, পার্টি অফিসে আগুন লাগার ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অভিযুক্তদের পরিচয় স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।