দক্ষিণ ২৪ পরগনা, রেশমি ব্যানার্জি: ক্রমাগতই চাপ বাড়ছে শওকত মোল্লার। ভাঙড়ে দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় আরও চাপে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা। NIA-র হেফাজত পর্ব শেষ হওয়ার পর এবার কলকাতা পুলিশের হেফাজতে শওকত। বোদরা এলাকায় দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে বারুইপুর মহকুমা আদালতের নির্দেশে শওকত মোল্লাকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়েছে ভাঙড় থানার পুলিশ।
শওকতের পুলিশি হেফাজতের পরেই শুরু হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদ। ভাঙ্গড় থানার বাইরে শওকত মোল্লাকে চেয়ার টেবিলে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ভাঙড় ডিভিশনের ডিসি শিবা প্রসাদ পাত্র তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। যদিও এই জিজ্ঞাসাবাদে কি কি প্রশ্ন শওকত মোল্লাকে করা হয়েছে তা পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে দীর্ঘক্ষন পুলিশি জেরার সম্মুখীন হতে হয় শওকতকে।
দীর্ঘ প্রায় বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে এই জিজ্ঞাসাবাদ। এরপর ফের শওকত মোল্লাকে থানার ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। বোদরা এলাকায় দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তাঁর ভূমিকা এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ বলে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। আগামীদিনে তদন্তের স্বার্থে আবারো এই জিজ্ঞাসাবাদ হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
একদিকে যখন NIA-র তদন্তে শওকত মোল্লাকে ঘিরে জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে, ঠিক তখনই নতুন মামলায় কলকাতা পুলিশের হেফাজতে শওকতের আসা ঘিরে ভাঙড়ের রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে চর্চা। আগামী পাঁচদিন তাকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের পক্ষ থেকে। তাই আগামী পাঁচটা দিন তিনি পুলিশের হেফাজতেই থাকবেন।
বোদরার ওই ঘটনায় ঠিক কি ঘটেছিল, কারা ঘটনায় যুক্ত ছিল শওকত মোল্লা ওই ঘটনার সঙ্গে কিভাবে জড়িয়ে ছিলেন তা ক্ষতিয়ে দিচ্ছে তদন্তকারীরা। শওকত মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ এর মধ্য দিয়ে এই তদন্তে নতুন কোনও তথ্য উঠে আসে কিনা সেদিকেই নজর রয়েছে তাদের।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে একটি বাড়ি ও দোকানে হামলা চালিয়ে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার মালপত্র লুট ও ভাঙচুর করার অভিযোগ ওঠে। এই মামলায় শওকত মোল্লা সহ মোট ১৭ জনের নাম এফআইআর করা হয়। গত আগস্ট মাসে ভাঙ্গড় থানার পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে শওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন শওকত মোল্লা। আগামীদিনে এই ঘটনার মোড় কোন দিকে ঘোরে সেই অপেক্ষাতেই ভাঙ্গরবাসী।