পর্যটন মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া জেলা। দীঘা, পুরী, দার্জিলিং-এর পরেই এই জেলার প্রতি পর্যটকদের একটা আলাদা এই টান রয়েছে। এবার পুরুলিয়ার পর্যটনকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে পর্যটন বিভাগ। মঙ্গলবার পুরুলিয়া জেলা সফরে আসেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ। তার সামনে তুলে ধরা হয় একগুচ্ছ প্রস্তাব।
এবার আর পুরুলিয়া মানে শুধু বেড়ানো নয়। উত্তরবঙ্গের মতোই অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ উপভোগ করা যাবে দক্ষিণবঙ্গের এই জেলাতে। অযোধ্যা পাহাড়ে রোপওয়ে, বিভিন্ন জলাধারে ওয়াটার অ্যাক্টিভিটি, জয়চণ্ডী পাহাড়ে রক ক্লাইম্বিংয়ের মতো প্রকল্পের প্রস্তাব উঠেছে জেলা পর্যটন মহলের তরফে। সেই প্রস্তাবে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ। এছাড়াও জেলায় তৈরি হবে পর্যটন স্যাটেলাইট ম্যাপ।
মঙ্গলবার বলরামপুরের একটি বেসরকারি রিসর্টে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘রূপসী পুরুলিয়া: পুরুলিয়া ট্যুরিজম কনক্লেভ ২০২৬'। এর মধ্যে দিয়ে একাধিক প্রস্তাব গিয়েছে পর্যটন মন্ত্রীর কাছে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রাজ্য প্রশাসন ও জেলার হোটেল-রিসর্ট মালিকদের বিশেষ বৈঠক। সেখানে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন পর্যটন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। রাজ্য প্রশাসন ও জেলার হোটেল-রিসর্ট মালিকদের বিশেষ বৈঠক সম্পন্ন হয়। অযোধ্যা পাহাড়ে দার্জিলিং-এর আদলে রোপওয়ে নির্মাণ, নিবারণ সায়ের-সহ বিভিন্ন জলাধারে ওয়াটার স্পোর্টস চালু করা এবং রঘুনাথপুরের জয়চণ্ডী পাহাড়ে রক ক্লাইম্বিংয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চার অ্যাক্টিভিটির প্রস্তাব দেওয়া হয় পর্যটন মন্ত্রীর কাছে।
এ বিষয়ে পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, পর্যটনের দিক থেকে সমৃদ্ধ এই জেলা। জেলা সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করতে তৎপর প্রশাসন। জেলার অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। জেলায় জেলায় হেল্পলাইন নম্বর চালু থাকবে।
মন্ত্রীর কাছে বেশকিছু প্রস্তাব রাখেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। তারা দাবি করেন, অযোধ্যা পাহাড়ের ব্যাপক হারে পর্যটকদের আনাগোনা থাকে পর্যটনের মরশুমে। এছাড়াও সারা বছর কম বেশি পর্যটকরা এসে থাকেন এই জেলায়। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নতির কারণে অনেকেই প্ল্যান বাতিল করেন। তাই এই যে লাইভ ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো উচিত। এছাড়াও টুরিস্ট স্পট গুলিতে পার্কিং রেস্ট এরিয়া সহ বেশ কিছু দাবি তোলেন তারা।
এই প্রস্তাবদের পরিকল্পনা গুলি বাস্তবায়িত হলে পুরুলিয়ার পর্যটনের ভোল বদলে যাবে। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে টেক্কা দিতে পারবে দক্ষিণের এই সুন্দরী পুরুলিয়া। এর মধ্যে দিয়ে জেলার পর্যটন যেমন সমৃদ্ধ হবে তেমনি স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।




