জলপাইগুড়ি: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে কি এবার জায়গা পাবে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি? পুজোর আবহেই এমন প্রস্তাব দিয়ে বিতর্কে জড়ালেন রাজগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক দীনেশ সরকার। জলপাইগুড়িতে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত দুর্গাপুজো কমিটিগুলির হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া এবং পুজোর গাইড ম্যাপ প্রকাশের একটি অনুষ্ঠানে তিনি মণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি রাখার আবেদন জানান। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
অনুষ্ঠানে দীনেশ সরকার বলেন, পুজোর মণ্ডপে কিংবা তার আশপাশে মুখ্যমন্ত্রীর একটি ছবি রাখা উচিত। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু সকলের কথা ভাবেন, তাই তাঁর ছবি পুজো মণ্ডপে রাখা যেতে পারে। তবে এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হতেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন বিধায়ক। তিনি জানান, এটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। কোনও বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি এমন কথা বলেননি বলেই দাবি করেন।
অন্যদিকে, জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ চিকিৎসক জয়ন্ত কুমার রায় বিধায়কের এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও বেড়েছে।
পুজোর আবেগে রাজনীতির রং?
বিজেপি বিধায়কের এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে বিরোধীরা। বাম ও কংগ্রেসের বক্তব্য, দুর্গাপুজোর মতো সর্বজনীন উৎসবকে রাজনৈতিক প্রচারের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁদের মতে, দুর্গাপুজো বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত। সেই উৎসবের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি জুড়ে দেওয়ার প্রস্তাব অনভিপ্রেত।
বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। যদিও এই সমালোচনার জবাবে বিজেপির তরফে নতুন কোনও বক্তব্য সামনে এসেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এই বিতর্কে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর ছবি নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই। তবে পুজোর মণ্ডপে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি রাখার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই দুর্গাপুজো ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। সেখানে তিনি দুর্গাপুজোকে বাঙালির আবেগ ও ভক্তির উৎসব হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, এটি রাজনীতির জায়গা নয়।
অন্যদিকে, সিপিএমের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুসরণের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর কটাক্ষ, বিজেপির মধ্যে তৃণমূলের খারাপ দিকগুলি প্রবেশ করছে।
পুজোর মণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি রাখার প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে সরগরম বাংলার রাজনীতি। উৎসবের আবহে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও কতটা রাজনৈতিক মাত্রা নেয়, এখন সেটাই দেখার।
