নিউজ ডেস্ক: ছুটি মঞ্জুর হয়েছে আগেই। অফিসের নিয়ম মেনেই আবেদন করেছিলেন কর্মী। এমনকি ছুটিতে যাওয়ার আগে মানবসম্পদ বিভাগ (এইচআর) এবং নিজের ম্যানেজারের কাছ থেকেও নিশ্চিত অনুমতি নিয়েছিলেন। কিন্তু ছুটিতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হল তাঁকে। কারণ, ছুটির মধ্যেই একের পর এক বাধ্যতামূলক অনলাইন বৈঠকের আয়োজন করতে শুরু করেন তাঁর বস। সেই বৈঠকে যোগ না দিলে বার্ষিক পারফরম্যান্স রিপোর্ট খারাপ করে দেওয়ারও ইঙ্গিত দেন তিনি। এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন এক কর্মী। ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ এবং কর্মীদের ব্যক্তিগত সময়ের অধিকার নিয়ে বিতর্ক।
রেডিটের ‘টক্সিক ওয়ার্কপ্লেস’ ফোরামে নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন ওই কর্মী। সংস্থার নাম অবশ্য প্রকাশ করেননি তিনি। তাঁর দাবি, বেশ কয়েক সপ্তাহ আগেই ছুটির আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন আনুষ্ঠানিক ভাবে মঞ্জুরও হয়েছিল। ছুটিতে যাওয়ার আগে এইচআর এবং ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত করে নিয়েছিলেন। তাঁর পরিকল্পনা ছিল, ছুটির দিনগুলিতে সম্পূর্ণ ভাবে কাজ থেকে দূরে থাকবেন। সেই মতো কয়েক মাস আগেই ভ্রমণের পরিকল্পনাও করেছিলেন।
কিন্তু ছুটিতে যাওয়ার পরেই পরিস্থিতি বদলে যায়। তাঁর ম্যানেজার একাধিক বৈঠকের সময় নির্ধারণ করেন। সেগুলিতে অনলাইনে যোগ দেওয়ার জন্য কর্মীকে চাপ দিতে থাকেন। কর্মী জানান, আগে থেকে অনুমোদিত ছুটি নেওয়ার উদ্দেশ্যই হল কাজ থেকে সাময়িক ভাবে বিচ্ছিন্ন থাকা। ফলে ছুটির মধ্যে অফিসের বৈঠকে যোগ দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
এর পরেই নাকি তাঁকে কার্যত হুঁশিয়ারি দেন ম্যানেজার। ওই কর্মীর কথায়, ‘তিনি আমাকে আলাদা করে ডেকে বলেন, আমি নাকি দলের পাশে দাঁড়াচ্ছি না। এমনকি ইঙ্গিত দেন, এর প্রভাব আমার পরবর্তী পারফরম্যান্স রিপোর্টেও পড়তে পারে। সহকর্মীরাও আমাকে জানিয়েছেন, এখানে এমনটাই নাকি নিয়ম। বস নিয়মিত কর্মীদের ছুটির মধ্যেই বৈঠক ডাকেন।’
এই পরিস্থিতিতে কী করবেন বুঝতে পারছেন না ওই কর্মী। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি যদি বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকার করি, তা হলে আমার মূল্যায়ন খারাপ হতে পারে। আবার যদি অনলাইনে যোগ দিই, তা হলে ছুটি কাটানোর আর কোনও অর্থই থাকে না। এটা কি আদৌ নিয়মসিদ্ধ? আপনাদের কারও কি এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে, যেখানে ম্যানেজার অনুমোদিত ছুটিকেও সম্মান করেননি?’
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে বহু পেশাদার মানুষ ওই কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। পোস্টের মন্তব্যে কর্মক্ষেত্রের বিষাক্ত পরিবেশ এবং কর্মীদের ব্যক্তিগত সময়ের অধিকার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এক জন পরামর্শ দিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত এইচআর বিভাগের নজরে আনা উচিত। তাঁর কথায়, ‘আমি হলে দেরি না করে এইচআর-কে মূল ইমেলের সঙ্গে যুক্ত করতাম। ম্যানেজারের সঙ্গে কী কথা হয়েছে, তা লিখে ছুটির নিয়ম সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইতাম। সত্যিকারের জরুরি পরিস্থিতি হলে মাঝেমধ্যে কাজে লগ ইন করা যায়। কিন্তু নিয়মিত এমনটা ঘটলে কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া উচিত নয়।’
আর এক জন নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, তিনি ম্যানেজার হওয়ার পর থেকে যে এইচআর বিভাগের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন আচরণের জন্য সেই বিভাগ ম্যানেজারকে কড়া জবাব দিত। অন্য এক কর্মীও জানিয়েছেন, পারিবারিক প্রয়োজনে কাজের সময়সূচি বদলানোর অনুরোধ করায় তাঁর ম্যানেজার অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। কিন্তু এইচআর-কে বিষয়টি জানানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।
সব মিলিয়ে, ঘটনাটি ফের এক বার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—অফিসের কাজের কি কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা উচিত নয়? ছুটি মঞ্জুর হওয়ার পরেও যদি কর্মীকে নিয়মিত কাজের চাপে থাকতে হয়, তা হলে ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সময় কোথায়?




