রাজ্য পুলিশের পরিকাঠামো, জনবল এবং স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় পুলিশ বাজেটের উপর জবাবি ভাষণে তিনি জানান, সরকার বদলের পর রাজ্য পুলিশকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বাহিনীতে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে ২০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ, থানাগুলির পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ কন্ট্রোলরুম চালুর ঘোষণা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য পুলিশের মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩৪৪। এর মধ্যে বর্তমানে ৪৩ হাজার ৭৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে প্রথম পর্যায়ে পুজোর আগেই ১৬ হাজার কনস্টেবল মাঠে নামানো হবে। সব মিলিয়ে মোট ২০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে বলে ঘোষণা করেন তিনি।
ভাষণে পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ দফতরকে অবহেলা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ১৩ বছর ধরে স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে যথাযথ আলোচনা হয়নি, বরং বাজেট গিলোটিন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাশ করানো হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার যথাযথ বাস্তবায়নেও আগের সরকার উদ্যোগী ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তৃতায় সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকার স্থায়ী পুলিশ কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে অযোগ্য ও প্রশিক্ষণহীন সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগে জোর দিয়েছিল। দীঘা থানার উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, সেখানে ৪০০ জন সিভিক ভলান্টিয়ার, কিন্তু মাত্র ২ জন সাব-ইন্সপেক্টর, ৩ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর এবং ১৫ জন কনস্টেবল কর্মরত ছিলেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। এই লক্ষ্যে একটি বিশেষ কন্ট্রোলরুম চালু করা হবে।




