রাজারহাট-এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনা। হঠাৎই একটি ভাড়া বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এবার সেই বিস্ফোরণের ঘটনায় উঠে এলো এক গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ। সেখানে স্পষ্ট ভাবে দেখা যায়, বিস্ফোরণের কয়েক মুহূর্ত আগে এক কিশোর সাদা রঙের একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে একটি ঘরে ঢোকে।
ঘর থেকে বেরিয়ে আসার পরই বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা বাড়ি। বিস্ফোরণে আহত হন অন্তত দুইজন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দরজার লক ছিটকে যায়, মিটার বক্স উপড়ে পড়ে এবং পাশের ঘরের কংক্রিটের অংশ ভেঙে যায়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্কের চেহারা।
জানা গিয়েছে, মাত্র দু'দিন আগে মহম্মদ শামিম ওরফে সেলিম নামে এক ব্যক্তি ওই ঘরটি ভাড়া নেন। বাড়ির মালিকের দাবি, স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে তিনি ভাড়াটিয়াকে ঘর দেখিয়েছিলেন এবং কাগজপত্র সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য চাবি দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি যে কিশোরকে দেখা গেছে তাকে সেলিম ব্যক্তি ঘরে রেখে আসার জন্য বলেছিল। সেই কারণে ওই কিশোর ব্যাগটি ঘরে রেখে এসেছিল। ওই ব্যাগেই বিস্ফোরক ছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। শনিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছায় NIA, বেঙ্গল STF, CID-র বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মহম্মদ শামিম ওরফে সেলিমকে কামারহাটি থেকে গ্রেফতার করেছে নারায়ণপুর থানার পুলিশ। পাশাপাশি বাড়ির মালিক জুলফিকার আনসারি, ওই কিশোর এবং স্থানীয় দালাল মহম্মদ শাহেনশাহকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কি কারনে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলো তা এখনো স্পষ্ট নয়।