তাঁর পরিবারের সদস্য ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে সবথেকে উজ্জ্বলতম বিপ্লবীদের একজন--সুভাষচন্দ্র বসু। স্বাধীনতার প্রয়োজনে,সশস্ত্র বিপ্লবের আহ্বানে কংগ্রেস ছেড়ে বেড়িয়ে আসেন। গঠন করেন 'আজাদ হিন্দ ফৌজ'। তাই সেই পরিবারের আরেক সদস্য সেই পন্থা অবলম্বন করবেন, তাতে আশ্চর্য কী! তবে এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্য চন্দ্র কুমার বসু। আজ দেওয়া ইস্তফাপত্রে তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কারণেই অবিলম্বে দল ছাড়ছেন। তবে তাঁর এই পদত্যাগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি ওই বছর রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ২০১৬ সালে তাঁকে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি করা হলেও, ২০২০ সালের সাংগঠনিক রদবদলে পদটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে তিনি বিজেপি ত্যাগ করেন এবং অভিযোগ করেন যে, নেতাজির জাতীয়তাবাদের আদর্শকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণে বিজেপি ব্যর্থ হয়েছে।
তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সময় তিনি বিজেপিতে যাওয়াকে নিজের 'ভুল সিদ্ধান্ত' বলে আখ্যা দেন এবং নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলে যোগ দেন চন্দ্র কুমার বসু। তবে এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, তাঁর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ বর্তমান 'মমতা-পন্থী' তৃণমূল? নাকি তিনিই কোথাও গিয়ে দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি? নাকি,এবার তিনিও ঋত-শিবিরে নাম লেখাবেন?
রাজনীতিতে আসার আগে কর্পোরেট জগতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন চন্দ্র কুমার বসু। লন্ডনের হেনডন কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং আইআইএম কলকাতা থেকে ম্যানেজমেন্ট সম্পন্ন করেন। টাটা স্টিলে প্রায় ১৮ বছর কাজ করে তিনি এরিয়া সেলস ম্যানেজার পদে উন্নীত হন। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে মানবসম্পদ পরামর্শ ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন 'বোস ইনফরমেশন টেকনলজি প্রাইভেট লিমিটেড'।
'ওপেন প্ল্যাটফর্ম ফর নেতাজি'র মুখপাত্র হিসেবে নেতাজি-সংক্রান্ত গোপন নথি জনসমক্ষে আনার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়েছেন। একইসঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়ার পক্ষেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তবে এক্ষেত্রে তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী-- সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেল।