নাগপুর, ২৪ অগস্ট: গভীর রাতে আচমকাই ছড়িয়ে পড়ল বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস। জলশোধনাগারের আশপাশের এলাকায় হুড়োহুড়ি পড়ে গেল। শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং চোখে জ্বালাপোড়ার অভিযোগ নিয়ে একের পর এক বাসিন্দাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হল। সোমবার ভোরের এই ঘটনায় নাগপুরের গোধনী এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৪০ থেকে ৫২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনকে আইসিইউতেও রাখা হয়েছে। তবে আপাতত সকলেই স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গোধনী এলাকার একটি জলশোধনাগারে, ফাগো পাটিল লেআউট ও নাগ মন্দির টেকড়ির কাছাকাছি। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, রাত প্রায় ১টা নাগাদ ৯০০ কিলোগ্রাম ধারণক্ষমতার একটি ক্লোরিন সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বেরোতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই গ্যাস আশপাশের বসতিতে ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমন্ত মানুষজনের অনেকেই শ্বাসকষ্ট ও প্রবল কাশিতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, জলশোধনাগারের কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। প্রায় ৮-১০ জন প্ল্যান্ট কর্মী এবং ২০-২৫ জন বাসিন্দার অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে ভর্তি মানুষের সংখ্যা আরও বাড়ে। কয়েক জন নাবালকও আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, দমকল এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। বিষাক্ত গ্যাসের মধ্যে ঢুকে বিশেষ সুরক্ষা পোশাক পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন উদ্ধারকারীরা। ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ গ্যাসের মূল লিক বন্ধ করার পর আক্রান্ত ক্লোরিন সিলিন্ডারটিকে জল ও কস্টিক সোডার মিশ্রণে রাখা হয়। উদ্ধারকাজে এনডিআরএফের পাশাপাশি দমকল এবং জল সরবরাহ সংস্থার কর্মীরাও ছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও সতর্কতায় জলশোধনাগারের চারপাশে প্রায় ২০০ মিটার এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। প্রশাসনের তরফে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সাময়িক ভাবে এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে বাতাসে গ্যাসের ঘনত্ব ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
আক্রান্তদের মধ্যে অনেককেই মায়ো হাসপাতাল এবং স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েক জন ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং কোনও মৃত্যুর খবর নেই। তবে কী কারণে এত বড় সিলিন্ডার থেকে ক্লোরিন গ্যাস বেরিয়ে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, এত বিপজ্জনক রাসায়নিক মজুত থাকা একটি জলশোধনাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা যথাযথ ছিল। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। আপাতত গ্যাসের মাত্রা কমেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।