নিউজ ডেস্ক: আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আর শরীরচর্চার অভাব রক্তে চর্বি বা কোলেস্টেরল বৃদ্ধির সমস্যাকে প্রায় ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছে। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়লে চিকিৎসকেরা সাধারণত নিয়মিত ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন। তবে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন হাতে পেয়েই সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন ‘কোলেস্টেরলের ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে কি লিভার পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে?’
জনমানসের এই বহু প্রচলিত আশঙ্কা ও ভুল ধারণা নিয়ে সম্প্রতি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকরা বলছেন, ভয় পেয়ে নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া ডেকে আনতে পারে প্রাণঘাতী বিপদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট অ্যাটাক, ব্রেন স্ট্রোক বা পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজের মতো গুরুতর হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত উচ্চ ঝুঁকির রোগীদের ক্ষেত্রে কোলেস্টেরলের ওষুধ রীতিমতো জীবনদায়ী ঢাল হিসেবে কাজ করে। এই জাতীয় ওষুধ মূলত যকৃতের কোষে থাকা ‘এইচএমজি কো-এ রিডাক্টেজ’ নামের একটি বিশেষ উৎসেচক বা এনজাইমকে নিয়ন্ত্রণ করে কোলেস্টেরল তৈরি কমায়। এর ফলে লিভারের কোষগুলোতে সাময়িক একধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। রক্ত পরীক্ষায় মাঝেমধ্যে SGPT বা SGOT-এর মতো এনজাইমের মাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। তবে এটি সম্পূর্ণ অস্থায়ী এবং নিজে থেকেই পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে, লিভারের কোনো স্থায়ী বা মারাত্মক ক্ষতি এতে সাধারণত হয় না।
তবে সতর্ক থাকার জায়গাও রয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, যদি কোনো কারণে রক্তের ALT এনজাইমের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি বেড়ে যায়, কিংবা শরীরে চরম ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, চোখ বা ত্বকে হলুদ ভাব এবং গাঢ় রঙের প্রস্রাবের মতো ‘ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি’র স্পষ্ট লক্ষণ দেখা দেয়, তবেই কেবল বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন হয়। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সাময়িকভাবে ওষুধ পরিবর্তন বা বিকল্প উপায়ে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পাশাপাশি ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া বা ‘ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন’ বিষয়েও সতর্ক করেছেন চিকিৎসকেরা। টিবি বা যক্ষ্মার ওষুধ, কিছু নির্দিষ্ট অ্যান্টি-ফাংগাল বা বিষণ্ণতা ও স্নায়ুর ওষুধের সাথে কোলেস্টেরলের ওষুধ চললে লিভারের ওপর চাপ কিছুটা বাড়তে পারে। সবচেয়ে বড় বিপদ লুকিয়ে রয়েছে অ্যালকোহল বা মদ্যপানে। কোলেস্টেরলের ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি যদি কেউ অনিয়ন্ত্রিতভাবে মদ্যপান চালিয়ে যান, তবে যকৃতের বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
তাই ও হয়তো কোন গুজবে কান না দিয়ে অথবা সামাজিক মাধ্যমে কোন ইনফ্লুয়েন্সারের ভিডিও দেখে প্রভাবিত না হয়ে যেকোনো ধরনের সমস্যা হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বর্তমান সময়ের আমরা অনেকেই সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন ভিডিও দেখে ইনক্লুএন্স হয়ে যান অথবা ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। অনেক ক্ষেত্রে আবার দেখা যায় তিনি নিজেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। একে বাড়তে পারে ক্ষতির ঝুঁকি তাই সবার আগে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সঠিক পরামর্শ নেওয়া উচিত।
