পড়াশোনার বয়স। অথচ হঠাৎই বাড়ি থেকে নিখোঁজ দ্বাদশ শ্রেণির এক পড়ুয়া। যাওয়ার আগে পড়ার টেবিলে রেখে গিয়েছে একটি চিঠি। তাতে লেখা—‘কাশী যাচ্ছি। সেখানেই বাকি জীবন কাটাব, ঈশ্বরের সঙ্গে মিশে যাব।’ কেরলের কান্নুরের চোকলি এলাকায় এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে। গত শনিবার দুপুর থেকে নিখোঁজ শিব সূর্য নামে ওই পড়ুয়ার সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। পরিবারের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরাও খোঁজ চালাচ্ছেন। তবে এখনও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি।
চোকলির রামাভিলাসম হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র শিব। পরিবারের দাবি, সম্প্রতি অনলাইন গেম খেলার প্রতি তাঁর আসক্তি তৈরি হয়েছিল। গেম খেলতে গিয়ে টাকা হারানোর ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যেরা। এর পরেই শিবের বাবা তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। পরিবারের বক্তব্য, ফোন কেড়ে নেওয়ার পরেই শনিবার দুপুর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় কিশোরটি।
প্রথমে বাড়ির লোকজন আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের বাড়িতে খোঁজ করেন। কোথাও সন্ধান না মেলায় চোকলি থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়। তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। একই সঙ্গে পরিবারের লোকজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালাচ্ছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত শিব কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর মধ্যেই পড়ার টেবিল থেকে উদ্ধার হয় ওই চিঠি।
পরিবারের দাবি, সেটি শিবেরই লেখা। সেখানে কাশী যাওয়ার কথা এবং সেখানে গিয়ে ঈশ্বরের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। ফলে তদন্তকারীদের নজরে এখন কাশীর সম্ভাব্য যোগাযোগও। তবে শিব সত্যিই কাশীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল কি না, তার কোনও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও পুলিশের হাতে নেই। শুধু চিঠির ভিত্তিতে তার গন্তব্য নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, শিবের কোনও খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের কোনও উপায়ও নেই। পুলিশও বিভিন্ন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
চিঠির বক্তব্য, নিখোঁজ হওয়ার সময় এবং তার আগে কিশোরটির আচরণ—সব কিছু মিলিয়েই তদন্ত এগোচ্ছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা। বিজেপির কান্নুর জেলা সভাপতি বিজু এলাক্কুঝিও পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি দ্রুত তল্লাশি আরও জোরদার করে শিবকে খুঁজে বার করার দাবি জানিয়েছেন। তবে এই ঘটনায় আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে—অনলাইন গেমিংয়ের প্রতি কিশোরদের বাড়তে থাকা ঝোঁক।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, শিব গেম খেলতে গিয়ে টাকা হারিয়েছিল। সেই কারণেই বাবা তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছিলেন। এর পরেই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—শিব কোথায়? পড়ার টেবিলে রেখে যাওয়া চিঠি কি তাঁর প্রকৃত গন্তব্যের ইঙ্গিত, নাকি আবেগের বশে লেখা কয়েকটি কথা? কাশীর নাম থাকলেও সেখানে তিনি পৌঁছেছেন কি না, তার কোনও নিশ্চিত খবর নেই। তাই চিঠিকে সূত্র করে যেমন তল্লাশি চালানো হচ্ছে, তেমনই অন্য সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শনিবার দুপুর থেকে সময় গড়িয়েছে। পরিবারের অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে। একটি চিঠি, একটি মোবাইল ফোন এবং অজানা গন্তব্য—এই তিন সূত্রের মাঝেই এখন নিখোঁজ দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র শিব সূর্যের সন্ধান।