স্নিগ্ধা চৌধুরী
রাজনীতির ব্যস্ততার মাঝেও কিছু মুহূর্ত শুধুই পারিবারিক আনন্দ আর আবেগের হয়ে ওঠে। তেমনই এক বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পূর্ব বর্ধমানের ভাতাড়। সদ্য কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন ভাতাড়ের বিজেপি বিধায়ক সৌমেন কার্ফা। আর পরিবারের এই আনন্দঘন মুহূর্তে নবজাতিকার নামকরণের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া নামেই পরিবারের নতুন সদস্যের পরিচয় হল ‘সুভদ্রা’।
রবিবার কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন সৌমেন কার্ফার স্ত্রী রিম্পা হাটি কার্ফা। মা ও নবজাতক দু'জনেই সুস্থ রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রথম সন্তানের আগমনে স্বভাবতই খুশির আবহ কার্ফা পরিবারে। সেই আনন্দ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়, যখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শিশুটির নাম হিসেবে বেছে নেন ‘সুভদ্রা’, যা জগন্নাথদেবের বোনের নাম।
সৌমেন কার্ফা সামাজিক মাধ্যমে জানান, কন্যাসন্তানের জন্মের খবর তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। একইসঙ্গে মেয়ের নামকরণের অনুরোধও করেছিলেন। সেই অনুরোধ রাখতেই শুভেন্দু অধিকারী নবজাতিকার জন্য ‘সুভদ্রা’ নামটি বেছে নেন। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া এই নামই সানন্দে গ্রহণ করেছেন পরিবারের সকল সদস্য। নিজের পোস্টে সৌমেন লেখেন, শ্রদ্ধেয় দাদার দেওয়া নামেই তাঁর মেয়ের নাম রাখা হয়েছে এবং সকলের আশীর্বাদ কামনা করেছেন।
ভাতাড়ের বিধায়ক জানান, স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন পরিবারে আগেই নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। পুত্রসন্তান হলে তার নাম রাখা হবে ‘বুবাই’ বা ‘শুভেন্দু’, এমনটাই ঠিক করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তবে কন্যাসন্তানের জন্মের পর মেয়ের নাম কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর উপরই ছেড়ে দেন। শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া নামেই পরিবারের নতুন সদস্যের পরিচয় মিলেছে।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে ভাতাড় কেন্দ্র থেকে প্রথমবার বিজেপির প্রার্থী হয়ে জয়ী হন সৌমেন কার্ফা। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়েই বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর এবার ব্যক্তিগত জীবনেও এল সবচেয়ে বড় সুখবর। পরিবারের নতুন সদস্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই আত্মীয়-পরিজন, শুভানুধ্যায়ী ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। কোথাও মিষ্টি বিতরণ হয়েছে, কোথাও আবার নবজাতিকার সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
একটি শিশুর জন্ম যেমন একটি পরিবারের জীবনে নতুন আলোর সূচনা করে, তেমনই তার নামের মধ্যেও জড়িয়ে থাকে ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। কার্ফা পরিবারের কাছে ‘সুভদ্রা’ তাই শুধু একটি নাম নয়, বরং চিরস্মরণীয় এক আবেগের স্মৃতি হয়ে রইল।