বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের যন্ত্রণা যেন ফের ফিরিয়ে আনল কলম্বিয়া ফুটবলের সবচেয়ে অন্ধকার স্মৃতি। ৩২ বছর আগে আত্মঘাতী গোলের ‘অপরাধে’ প্রাণ দিতে হয়েছিল আন্দ্রে এস্কোবারকে। এ বার একই রকম হুমকির মুখে কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার জামিন্টন কাম্পাজ। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, ২৬ বছর বয়সি ফুটবলার আপাতত দেশে ফিরতেই চাইছেন না। কলম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশন হুমকির তীব্র নিন্দা করলেও আতঙ্ক কাটেনি।
রাউন্ড অব ১৬-তে সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় কলম্বিয়া। টাইব্রেকারে কাম্পাজ নিজের শট জালে জড়ালেও অতিরিক্ত সময়ে সহজ একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেছিলেন। সেই মুহূর্তকেই পরাজয়ের জন্য দায়ী করছেন সমর্থকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ওই গোল হলে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়াত না। আর সেই ক্ষোভ থেকেই সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক খুনের হুমকি পাচ্ছেন আর্জেন্টিনার ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালের এই মিডফিল্ডার।
মৃত্যুভয়ের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন কাম্পাজ। তিনি লিখেছেন, “ফুটবলে কঠিন মুহূর্ত থাকেই। প্রিয় কলম্বিয়া, দয়া করে নিজের সম্মান হারিও না। মতভেদ থাকতে পারে। হতাশাও থাকতে পারে। কিন্তু কোনও আবেগই ঘৃণা ছড়ানো বা কাউকে ভয়ের মধ্যে বাঁচতে বাধ্য করার কারণ হতে পারে না।” একই সঙ্গে কলম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনও স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও ফুটবলার বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। ফুটবল ঐক্য, সম্মান এবং আশার প্রতীক, হিংসা বা ভয় দেখানোর নয়।
এই ঘটনা অনিবার্য ভাবেই ফিরিয়ে আনছে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের বিভীষিকা। আমেরিকার বিরুদ্ধে আত্মঘাতী গোল করার পর দেশে ফিরে মেডেলিনে খুন হয়েছিলেন ডিফেন্ডার আন্দ্রে এস্কোবার। সেই হত্যাকাণ্ড আজও বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। তিন দশকেরও বেশি সময় পরে আবার এক কলম্বিয়ান ফুটবলারের প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রমাণ করে, মাঠের একটি ভুল কখনও কখনও মাঠের বাইরের ভয়ঙ্কর বাস্তবতাকেও ডেকে আনতে পারে।




