কলকাতা, পিউ নন্দী: বালির সৈকতে প্রেম প্রস্তাব, রিল নয় এবার বাস্তবে সাতপাকে বাঁধা পড়ার পথে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর। সিনেমা আর্টিস্ট হোক কিংবা বড় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল থাকে বরাবরই। তারা জানতে চান তাদের প্রিয় তারকার জীবনের খুঁটিনাটি। তাই জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সোশ্যাল মিডিয়ায় আংটি বদলের ছবি পোস্ট করতেই মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে সেই ছবি। শুভেচ্ছা ভরিয়ে দিচ্ছেন ভক্তরা আবার অনেকেই প্রথমবারের মতো এটিও কোন বিজ্ঞাপনের শুটিং কিনা জানতে চাইছেন কটাক্ষের সুরে।
সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে আজকের দিনে অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটরই তারকাদের মতো তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। ঠিক তেমনই এক পরিচিত মুখ প্রেরণা দাস। নেটদুনিয়ায় তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা এবং জনপ্রিয়তা কোনো সেলিব্রিটির চেয়ে কম নয়। সোমবার সকালে হঠাৎই ব্যক্তিগত জীবনের এক দুর্দান্ত মুহূর্তের খবর ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেই, শোরগোল পড়ে গেছে সামাজিক মাধ্যমে।
ইন্দোনেশিয়ার নৈসর্গিক বালি থেকে পোস্ট করা একাধিক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, জীবনের এক নতুন অধ্যায় দাঁড়িয়ে তিনি। পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্রেরণার হাতে একটি সুন্দর আংটি আর ঠিক তাঁর পেছনে সুসজ্জিত অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘উইল ইউ ম্যারি মি’। স্বভাবতই ছবিটি সামনে আসার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় শুভেচ্ছা এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গেছে। তবে একই সঙ্গে অনেক ভক্তের মনে উঁকি দিয়েছে এক অদ্ভুত সংশয়।
কারণ কিছুদিন আগেই একেবারে কনের সাজে বিয়ের পিঁড়িতে বসার ছবি শেয়ার করেছিলেন প্রেরণা, যা দেখে অনুরাগীরা প্রথমে আসল ভেবে ভুল করলেও পরে জানা যায় তা ছিল নিছকই একটি ফটোশুট বা কাজের অংশ। ফলে এবারও বালির রোম্যান্টিক আবহ দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এটি কি শুধুই কোনো বিজ্ঞাপনী শুটিং নাকি সত্যিই মনের মানুষের সঙ্গে বাস্তব জীবনের নতুন সূচনা?
এই ধোঁয়াশা কাটাতে অবশেষে মুখ খুলেছেন স্বয়ং এই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে একগাল হেসে তিনি জানান, এবারের মুহূর্তটি সম্পূর্ণ বাস্তব। কোনো শুটিং নয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বাগদান পর্বটি সেরে ফেলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনই বিশদে কিছু জানাতে চাননি তিনি।
জানা গেছে, প্রেরণার মনের মানুষটির নাম সার্থক গুপ্তা। আর তিনি প্রেরণা থেকে একেবারে প্রায় বিপরীত। প্রেরণা যেমন থাকেন গ্ল্যামার দুনিয়ার মধ্যে ঠিক তার উল্টো তার মনের মানুষটি। গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে দূরে থাকা সার্থক পেশায় একজন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী এবং তাঁর নিজস্ব রেস্তোরাঁর ব্যবসা রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে এক সাধারণ বন্ধুর সূত্রে তাঁদের প্রথম পরিচয় হয়, যা খুব দ্রুত ভালোবাসায় পরিণত হয়। কোলাহলমুক্ত শান্ত বালির বুকে এমন একটি মুহূর্ত কাটানোকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
তবে কি এই বছরেই চারহাত এক হতে চলেছে? দিনক্ষণ গোপনীয় রাখলেও বিয়ের প্রশ্নে প্রেরণা নিশ্চিত করেছেন, খুব দ্রুতই তাঁরা বাস্তব জীবনে গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছেন।