টানা বর্ষণের জেরে বেড়েছে জল স্তর। আর এতেই জলের তোড়ে ভেসে গেল বিষ্ণুপুরের প্রকাশ ঘাটের কাঠের সেতু ও সংলগ্ন অস্থায়ী রাস্তা। এক লহমায় থমকে গেল হাজার হাজার মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত। কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর, পাত্রসায়ের ও ইন্দাস ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা।
চলতি বছরে কিছুটা দেরিতে প্রবেশ করেছে বর্ষা। কিন্তু বিগত দু তিন দিন টানা বৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গাতে। নিম্নচাপের প্রভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছে দারকেশ্বর নদ। আর তারই জেরে নদীর প্রবল স্রোতে তলিয়ে যায় প্রকাশ ঘাটের অস্থায়ী কাঠের সেতু এবং নদীর উপর নির্মিত মাটির রাস্তা। এই প্রকাশ ঘাট সেতুটি শুধুমাত্র একটি সেতু নয় এটি এই এলাকার মানুষের কাছে একপ্রকার 'লাইফলাইন'।
বিষ্ণুপুর মহকুমা শহরের সঙ্গে পাত্রসায়ের, ইন্দাস এবং বিষ্ণুপুর ব্লকের হিংজুড়ি-সহ একাধিক গ্রামের সবচেয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত যোগাযোগের মাধ্যম ছিল এই পথ। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই সেতু ব্যবহার করে কর্মস্থলে যান, রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেন কিংবা এলাকার উৎপাদিত তাজা সবজি নিয়ে পৌঁছে যান বিষ্ণুপুরের বাজারে। ঘুর পথে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে এবার থেকে।
স্থানীয়দের দাবি, এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে হবে তাদের। ফলে সময়ের পাশাপাশি বাড়বে যাতায়াতের খরচও। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন কৃষক, ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার উপর নির্ভরশীল মানুষজন।
দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ ঘাটে একটি স্থায়ী পাকা সেতুর দাবি জানানো হলেও পূর্বতন সরকার সেই দাবিতে গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ করেন এলাকার মানুষজন। প্রতি বর্ষাতেই অস্থায়ী সেতু ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্তমানে রাজ্যের পালাবদল হয়েছে। তাই তারা আশা করছেন এবার অন্তত বর্তমান বিজেপি সরকার তাদের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে। যাতে প্রতি বর্ষায় আর বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা এমনটাই দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষজন।
এ বিষয়ে বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাস বলেন, তাদের সরকার প্রতিশ্রুতি দেয় না বরং প্রতিকার দেয়। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু পাকাপাকিভাবে তৈরি করার জন্য তাদের এলাকার বিধায়িকা ইতিমধ্যেই বিধানসভায় প্রস্তাব দিয়েছেন। মাত্র কয়েকটা মাস তাদের সরকার গঠন হয়েছে। সবকিছুকে গুছিয়ে তুলতে বেশ খানিকটা সময় লাগছে। তবে খুব দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু পাকাপাকিভাবে নির্মিত হবে।
প্রকাশ ঘাটের এই সেতু ভেঙে যাওয়ায় বহু মানুষের রুটি-রুজিতে টান পড়েছে। চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা। কারণ এটি শুধু সেতু নয় বিষ্ণুপুরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। এই এলাকার মানুষদের সমস্যার কবে সমাধান হয় সেটাই এখন দেখার।