দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ফের করোনা সংক্রমণের খবর সামনে আসায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দিল্লি, মুম্বই, অন্ধ্র প্রদেশ ও কর্নাটক-সহ একাধিক জায়গায় কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কিছু এলাকায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। ফলে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখতে শুরু করেছে কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির স্বাস্থ্য দফতর। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে অতীতের মতো ভয়াবহ বলে মনে করার কোনও কারণ নেই।
করোনা মহামারির ভয়াবহ স্মৃতি এখনও মানুষের মনে টাটকা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চিন থেকে শুরু হওয়া করোনা সংক্রমণ অল্প সময়ের মধ্যেই গোটা বিশ্বে মহামারির আকার নেয়। ২০২০ সালে ভারত-সহ বহু দেশে লকডাউন জারি করা হয়। পরপর একাধিক ঢেউয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু এবং কোটি কোটি মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পর টিকাকরণ কর্মসূচির ফলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ২০২২ সালের পর থেকে সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
কিন্তু সম্প্রতি আবার কিছু রাজ্যে নতুন করে সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে। অন্ধ্র প্রদেশে আটজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সেখানে ৫২ ও ৪৩ বছর বয়সী দুই ব্যক্তির মৃত্যুর খবরও মিলেছে। কর্নাটকে আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, মুম্বইয়ে গায়ক কুমার শানুর ছেলে জান কুমার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
ওড়িশায় এখনও পর্যন্ত কোনও সংক্রমণের খবর না মিললেও, সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার আগাম সতর্কতা জারি করেছে। হাসপাতালগুলিকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে এবং নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বর্তমান সংক্রমণ সীমিত পরিসরে রয়েছে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কোনও ইঙ্গিত এখনও পাওয়া যায়নি। আগের সংক্রমণ ও টিকাকরণের ফলে অধিকাংশ মানুষের শরীরে হাইব্রিড ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে। তাই আগের মতো বড় আকারের সংক্রমণের সম্ভাবনা আপাতত কম। তবে বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত এবং কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষদের বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, জ্বর, শুকনো কাশি, গলা ব্যথা, সর্দি, নাক বন্ধ, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব বা ডায়ারিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। আর যদি শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ অনুভব করা বা অক্সিজেনের মাত্রা ৯৩ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র। জনবহুল স্থানে মাস্ক ব্যবহার, নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা, অসুস্থ হলে বাড়িতে থেকে আইসোলেশনে থাকা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।