ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ফুটবলজীবনে শেষের ঘণ্টা কি তবে বেজেই গেল? ৪১ বছরের পর্তুগিজ মহাতারকা নিজেই এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যা জন্ম দিচ্ছে নয়া জল্পনার। তাঁর কথায়, ২০২৬-২৭ মরশুমই সম্ভবত পেশাদার ফুটবলার হিসাবে তাঁর শেষ মরশুম হতে চলেছে। অর্থাৎ, আর খুব বেশি দিন মাঠে দেখা যাবে না বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলমেশিনকে। যদিও এখনও অবসর ঘোষণার কথা স্পষ্ট করে জানাননি রোনাল্ডো। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে বিদায়ের সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত হিসাবেই দেখছে ফুটবলমহল।
এক সাক্ষাৎকারে রোনাল্ডো বলেছেন, “সম্ভবত এটাই আমার ফুটবলের শেষ বছর। আমি একটি দুর্দান্ত উত্তরাধিকার রেখে যেতে চাই।” এই মন্তব্যের পরেই শুরু হয়েছে জল্পনা। এত দিন বয়সকে উপেক্ষা করে একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়ে চলেছেন তিনি। কিন্তু এ বার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর মন্তব্যে পরিষ্কার, অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবনাচিন্তা অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। পর্তুগালের অধিনায়ক হিসাবে এখনও তাঁর সামনে বড় লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৬-২৭ মরশুমে মাঠে তাঁর উপস্থিতি তাই ভক্তদের কাছে হয়ে উঠতে পারে বিশেষ আবেগের।
তবে অবসরের আগে রোনাল্ডোর সামনে রয়েছে আরও একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। ক্লাব এবং দেশের হয়ে এখনও পর্যন্ত ১,৩৩০টি ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৯৭৬। অর্থাৎ, আর মাত্র ২৪ গোল করলেই পৌঁছে যাবেন ১,০০০ গোলের অবিশ্বাস্য নজিরে। ফুটবল ইতিহাসে যে মাইলফলক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে, সেটিই এখন তাঁর কেরিয়ারের শেষ বড় লক্ষ্যগুলির অন্যতম হয়ে উঠতে পারে। বয়স ৪১ পেরিয়েও গোলের ক্ষুধা এতটুকু কমেনি সিআর সেভেনের। বরং শেষ অধ্যায়টিকেও স্মরণীয় করে রাখতে চাইছেন তিনি।
রোনাল্ডোর সম্ভাব্য অবসর শুধু পর্তুগাল নয়, গোটা ফুটবল বিশ্বের কাছেই এক যুগের অবসান হবে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস থেকে শুরু করে পর্তুগাল—প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্বের বড় মঞ্চে নিজের ছাপ রেখে গিয়েছেন তিনি। অসংখ্য গোল, রেকর্ড, ট্রফি এবং ব্যক্তিগত সম্মানে ভরা তাঁর কেরিয়ার ইতিমধ্যেই কিংবদন্তির মর্যাদা পেয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই। ২০২৬-২৭ মরশুমের শেষে কি সত্যিই বুটজোড়া তুলে রাখবেন রোনাল্ডো? উত্তর হয়তো সময়ই দেবে। তবে তাঁর নিজের মুখে ‘সম্ভবত এটাই শেষ বছর’—এই স্বীকারোক্তি যে ফুটবলপ্রেমীদের মনে বিদায়ের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে, তা বলাই যায়।