মঙ্গলবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল মুম্বইয়ের ভিলে পার্লে পশ্চিমের একটি ১২ তলা আবাসনে। লাগাতার বৃষ্টিতে একদিকে যখন বিপর্যস্ত মুম্বই, ঠিক সেই সময়ই শান্তা ভবন নামের এই আবাসনের ১১ তলায় আগুন লেগে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। তাঁদের মধ্যে রয়েছে আড়াই বছরের এক শিশুও। ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ জন। রাত ১০টা ২ মিনিট নাগাদ মুম্বই দমকলের কাছে আগুন লাগার খবর আসে। ১০টা ৮ মিনিটে আগুনকে প্রথমে ‘লেভেল-১’ ঘোষণা করা হলেও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মুহূর্তেই তা পৌঁছে যায় ‘লেভেল-২’-এ।
দমকল সূত্রে খবর, প্রায় ৪ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। বৈদ্যুতিক তার ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, এসি, ঘরের আসবাবপত্র, সোফা, খাট, ফলস সিলিং এবং রান্নাঘরের বাসনপত্র আগুনের কবলে পড়ে। দীর্ঘ চেষ্টার পর রাত প্রায় ১টা নাগাদ আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। যদিও কী ভাবে এই অগ্নিকাণ্ড, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আগুনের ঘটনায় মোট আট জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে কুপার হাসপাতালে এবং বাকি ৬ জনকে নানাবতী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কুপার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩০ বছরের দমকলকর্মী মনোজ সোনাওয়ানে এবং ২৯ বছরের শিবম দ্বিবেদীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নানাবতী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া আড়াই বছরের আবির এবং ২৩ বছরের অঙ্কিতাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। অন্য আহতদের মধ্যে পার্থ (৩২), হিরেন (৬৪), যশস্বী (৩৩) এবং অভিষেকের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।
যশস্বী এবং অভিষেককে চিকিৎসার পর হাসপাতাল ইতিমধ্যেই থেকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণ আগুন লাগল, তা এখনও জানা যায়নি। বৈদ্যুতিক তার বা সরঞ্জাম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাতের এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় গোটা আবাসনজুড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও দীর্ঘ সময় ধরে চলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজ।