নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ। তার দাপটে দুর্যোগ শুরু হয়েছে দেশের পূর্ব উপকূলে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল এবং দক্ষিণ ওড়িশার সংলগ্ন এলাকায় স্থলভাগে ঢোকার পর উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে নিম্নচাপটি। এর প্রভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে দক্ষিণ ওড়িশার একাধিক জেলায়। বিশেষ করে, পুরীকে ইতিমধ্যেই ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। এর পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় মৎস্যজীবীদেরও নিষেধ করা হয়েছে সমুদ্রে যেতে। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক ঘণ্টায় নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ক্রমশ দুর্বল হতে পারে।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ওড়িশার বিভিন্ন প্রান্তে ছিল বৃষ্টির দাপট। কোরাপুটের সেমিলিগুড়ায় ২৪ ঘণ্টায় ১৯৩.৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। অন্য একটি পরিসংখ্যানে সিমিলিগুড়ায় ২৩০ মিলিমিটার অতিভারী বৃষ্টির কথাও জানানো হয়েছে। পুরীর পাশাপাশি কোরাপুট, কালাহান্ডি, নবরংপুর এবং মালকানগিরিতে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। রায়গড়া, গজপতি, গঞ্জাম, পুরী, খুরদা, নয়াগড়, কান্ধমাল-সহ আরও বেশ কিছু জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষিণ ওড়িশার বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনকে সতর্ক রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৮টি জেলায় নেওয়া হয়েছে স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও।
শুধু ওড়িশা নয়। নিম্নচাপের প্রভাব পড়তে পারে অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, তেলঙ্গানা, ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গেও। অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক জায়গায় ইতিমধ্যেই ভারী বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় জল ঢোকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেলঙ্গানার হায়দ্রাবাদ, সেকেন্দ্রাবাদ, রঙ্গারেড্ডি এবং মেদচল-মালকাজগিরি জেলায় শুক্রবার সরকারি অফিস, স্কুল ও কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের রাঁচি, খুঁটি, গুমলা, সিমডেগা এবং পশ্চিম সিংভূমে জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা। বিহারের ৩৮টি জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা। উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
যদিও রাজধানী দিল্লিতে বৃহস্পতিবার আবহাওয়া তুলনামূলক শান্ত থাকার পূর্বাভাসই দেওয়া হয়েছিল। আকাশ মূলতঃ পরিষ্কার থাকবে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। শুক্রবারও বড়সড় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে শনিবার থেকে বদলাতে পারে পরিস্থিতি। হরিয়ানা, চণ্ডীগড় এবং দিল্লিতে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে মৌসম ভবন। বজ্রপাতের সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। ফলে বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপ এখন দুর্বল হওয়ার পথে থাকলেও তার জেরে পূর্ব ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে আরও কয়েক দিন আবহাওয়ার চোখরাঙানি চলতে পারে।
