নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে ১৭ বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণের পর খুন করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর কিশোরীর দেহ রাস্তার ধারে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কয়েক দিন পর দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। দেহ এতটাই বিকৃত অবস্থায় ছিল যে, প্রাথমিকভাবে মৃতের লিঙ্গও স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছিল না। ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে তিন জন নাবালক।
১৩ সেপ্টেম্বর সেন্ট্রাল দিল্লির কুশক রোড থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, একটি টেম্পোর মধ্যে কিশোরীর উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছিল। পরে মারধর করে তাকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের আশপাশের প্রায় ৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করেন।
পুলিশের নজরে আসে একটি সন্দেহজনক টেম্পো। রাতে ওই টেম্পোটিকে ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখা গেলেও প্রথমে নম্বরপ্লেট স্পষ্ট ছিল না। এরপর আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা টেম্পোটির গতিবিধি অনুসরণ করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর রাতভর তল্লাশির পর সেটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
টেম্পোর চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তদন্তকারীরা বাকি অভিযুক্তদের সম্পর্কে তথ্য পান। এরপর মোট চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে তিন জনের বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। তাঁরা খাদ্দা কলোনির বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার সময় তাঁদের পরনে থাকা পোশাকও তদন্তের স্বার্থে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা টেম্পো এবং অন্যান্য সামগ্রী ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশের তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কিশোরী কয়েক দিন ধরে বাড়িতে ফেরেনি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি। পরিবারের দাবি, ওই কিশোরী মাঝেমধ্যেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেত এবং কয়েক দিন পর বাড়ি ফিরত। সেই কারণেই এবারও বিষয়টি নিয়ে প্রথমে সন্দেহ তৈরি হয়নি। এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। কিশোরীর সঙ্গে অভিযুক্তদের কী সম্পর্ক ছিল, তারা আগে থেকেই পরস্পরকে চিনত কি না এবং কী কারণে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল সবদিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষদর্শী এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। পাশাপাশি ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে ঘটনার পূর্ণ চিত্র বের করার চেষ্টা চলছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ফের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই নৃশংস ঘটনার পিছনে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।