নিউজ ডেস্ক: দিল্লির এক ঘিঞ্জি গলির চেনা ড্রাই-ফ্রুটসের দোকানের আড়ালেই যে রমরমিয়ে চলছিল নিষিদ্ধ মাদক তৈরির কারখানা, তা টের পাননি কেউই। উত্তর দিল্লির বুরারি এলাকার সেই গোপন আস্তানায় হানা দিয়ে এক আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের পর্দাফাঁস করল কেরল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে দুই আফ্রিকান মহিলাকে। ধৃতদের নাম চিনেলো লিলিয়ান (৩৬) এবং ফিলোমেন চ্যান্সেলিন (৩০)। লিলিয়ান নাইজেরিয়ার বাসিন্দা এবং ফিলোমেন ক্যামেরুনের নাগরিক। পুলিশ জানিয়েছে, গত প্রায় ৫ বছর ধরে ভারতে ভিসা ছাড়াই বেআইনিভাবে বসবাস করছিলেন এই দুই মহিলা। ড্রাই ফ্রুটসের ব্যবসার আড়ালে তাঁরা আসলে খোদ রাজধানীতে বসেই মেথামফেটামিন বা এমডিএমএ (MDMA)-এর মতো মারাত্মক সিন্থেটিক মাদক তৈরি ও পাচার করতেন।
দেখুন: https://x.com/MeghUpdates/status/2102683149025321285
সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় এই যে, এই বিশাল আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের হদিশ কিন্তু দিল্লি পুলিশ পায়নি। এই পর্দাফাঁসের সূত্রপাত সুদূর দক্ষিণ ভারতের কেরল রাজ্যে। কেরলের কান্নুর জেলার নিউ মাহে এলাকায় এক যুবকের কাছ থেকে মাত্র ০.৬ গ্রাম এমডিএমএ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তবে আপাতদৃষ্টিতে এই সামান্য পরিমাণ মাদকের উদ্ধারকে মোটেই হালকাভাবে নেয়নি কান্নুর সিটি পুলিশ। ওই যুবকের মোবাইল ফোন, কল রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতেই বেরিয়ে আসে এক বিপুল মাদক নেটওয়ার্কের খতিয়ান। কেরল থেকে সূত্র ধরে এগোতে এগোতে শেষ পর্যন্ত রাজধানী দিল্লির এই বুরারি অঞ্চলের একটি সাধারণ ড্রাই-ফ্রুটসের দোকানে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীর পর্যন্ত ছড়ানো। ধৃত মহিলারা গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ভুয়ো পরিচয়পত্রে নথিভুক্ত অজস্র সিম কার্ড ব্যবহার করতেন। মাদক বিক্রির কোটি কোটি টাকা লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা দেশের হত বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের নামে খোলা প্রায় ২০টি 'মিউল' বা বেনামি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। কেরল পুলিশের একটি বিশেষ দল দিল্লিতে ডেরা বেঁধে স্থানীয় পুলিশের সাহায্যে এই সফল অভিযান চালায়। ধৃতদের ঘর থেকে মাদক তৈরির রাসায়নিক, আধুনিক সরঞ্জাম এবং বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাও উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বেঙ্গালুরু এবং হরিয়ানা জুড়েও এই চক্রের ডালপালা ছড়ানো ছিল এবং এদের অন্য সহযোগীদের কাছ থেকে এর আগে ৮০০ গ্রাম এমডিএমএ উদ্ধার হয়েছিল।
মাত্র কয়েক মিলিগ্রাম মাদকের সূত্র ধরে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের এক আন্তর্জাতিক চক্রকে যেভাবে কেরল পুলিশ খাঁচায় পুরল, তা অপরাধ দমনের ইতিহাসে এক বড় সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে। ধৃত দুই আফ্রিকান নাগরিককে ইতিমধ্যেই ট্রানজিট রিমান্ডে কেরলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই চক্রের পেছনে আর কোন কোন রাঘববোয়াল বা বিদেশি চক্রের হাত রয়েছে, তা জানতে জেরা শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। দিল্লির বুকে এত বছর ধরে কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এই দুই বিদেশি নাগরিক জাল ভিসা নিয়ে মাদকের কারখানা চালাচ্ছিলেন, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে উৎসবের মরশুমের ঠিক মুখে এই বিপুল মাদক চক্রের পর্দাফাঁস চাঞ্চল্য তৈরি করেছে দেশজুড়ে।
