নয়াদিল্লি: দিল্লির ঐতিহ্যবাহী প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার শুনানি করবে দিল্লি হাইকোর্ট। সোমবার এই সংক্রান্ত আবেদনের কথা আদালতে উত্থাপিত হলে মঙ্গলবার শুনানিতে সম্মতি জানায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নীতিন বাসুদেও সাম্ব্রে এবং বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার বেঞ্চ। পাশাপাশি, গত ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভে সাধারণ প্রতিবাদকারীদের উপর হামলার অভিযোগের তদন্ত চেয়েও দায়ের হওয়া আরেকটি আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার হবে।
যন্তর মন্তর বন্ধের অভিযোগে দায়ের হওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার কার্যত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্তৃপক্ষ বিকল্প কোনও প্রতিবাদস্থল নির্দিষ্ট না করেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফলে নিজেদের দাবি তুলে ধরার জন্য প্রতিবাদকারীরা সমস্যার মুখে পড়ছেন।
সোমবার বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে শোনার আর্জি জানানো হলে হাইকোর্ট জানায়, একই বিষয় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন। শীর্ষ আদালত কেন্দ্রের কাছ থেকে হলফনামাও চেয়েছে। তাই বিষয়টি মঙ্গলবার শুনানির জন্য রাখা হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে, তাই একই বিষয়ে হাইকোর্টের কতটা হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে, তা বিবেচনা করতে হবে।
১০ অক্টোবরের বিক্ষোভে হামলার অভিযোগ
এদিকে, গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন সাধারণ বিক্ষোভকারীদের উপর হামলার অভিযোগ তুলে পৃথক আবেদন জমা পড়েছে। ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (NSUI)-এর সভাপতি বিনোদ ঝাখর এই আবেদন করেছেন।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রকাশ্য দিবালোকে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ, স্বাধীন এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। বিক্ষোভের মধ্যে বহিরাগতরা প্রবেশ করে প্রতিবাদকারীদের হেনস্থা করেছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে এখনও প্রমাণিত হয়নি।
নজর মঙ্গলবারের শুনানিতে
যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি, বিকল্প বিক্ষোভস্থলের ব্যবস্থা এবং প্রতিবাদকারীদের নিরাপত্তা সবকটি বিষয়ই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট কী পর্যবেক্ষণ করে এবং কোনও নির্দেশ দেয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।
শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা যায়, এই মামলার শুনানিতে সেই প্রশ্নও গুরুত্ব পেতে পারে।