কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: রাস্তা পরিদর্শনে গিয়ে এক ব্যক্তিকে চড় মারার অভিযোগে তীব্র বিতর্কের মুখে দিল্লির পূর্তমন্ত্রী পরবেশ ভার্মা (Parvesh Verma)। আম আদমি পার্টির তরফে সেই ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই গোটা দেশে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এ বার গোটা ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে মুখ খুললেন খোদ অভিযুক্ত মন্ত্রী। তাঁর দাবি, আপ বিধায়ক জারনেল সিংহের সঙ্গে আসা এক কর্মী তাঁর পরিবারকে গালিগালাজ করেছিলেন। সেই কারণেই রাগের মাথায় ওই ব্যক্তিকে চড় মারেন তিনি। যদিও আপের প্রকাশ করা ভিডিয়োয় ঘটনার সম্পূর্ণ ছবি নেই বলেই দাবি ভার্মার।
আপের পক্ষ থেকে সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, রাস্তা পরিদর্শনের সময় এক ব্যক্তির মুখোমুখি হয়েছেন দিল্লির পূর্তমন্ত্রী। প্রথমে বাঁ হাত দিয়ে ওই ব্যক্তির মোবাইল ফোনটি নামিয়ে দেন তিনি। তার পরই ডান হাত দিয়ে তাঁকে কষিয়ে চড় মারতে দেখা যায়। ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসতেই ভার্মার বিরুদ্ধে সরব হয় আপ। রবিবার নিজের বক্তব্যে মন্ত্রীর পাল্টা অভিযোগ, বিকাশপুরী রিং রোডে রাস্তা তৈরির কাজ চলাকালীন স্থানীয় বিধায়ক জারনেল সিংহ পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের উপর ঠিকাদারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এমনকি, তাঁর জন্য কমিশনের ব্যবস্থাও করতে বলেছিলেন বলে অভিযোগ ভার্মার।
https://x.com/gemsofbabus_/status/2104163447953076432
মন্ত্রী আরও দাবি করেন, বেশ কয়েক দিন ধরেই ওই রাস্তায় নির্মাণকাজ চলছিল। রাতে কাজ শেষ হওয়ার পর জারনেল সিংহ সেখানে গিয়ে নতুন তৈরি রাস্তা নষ্ট করতেন। তার পর দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ভিডিয়ো রেকর্ড করতেন। রবিবার ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় নিজেই রাস্তার কাজ দেখতে যান পরবেশ ভার্মা। তাঁর দাবি, কাজ ভালভাবেই এগোচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁকে জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই রাস্তা তৈরি হয়নি। এর পর বিধায়ককে ৩ বার ফোন করেন তিনি। প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর জারনেল তাঁর অনুগামীদের নিয়ে সেখানে আসেন বলে দাবি মন্ত্রীর।
ভার্মার অভিযোগ, ঘটনাস্থলে এসে জারনেল ও তাঁর সঙ্গীরা দুর্ব্যবহার শুরু করেন। সেই সময় বিধায়কের এক কর্মী তাঁর পরিবারকে গালিগালাজ করেন। তাতেই মাথা গরম হয়ে যায় তাঁর। যদিও এই যুক্তিতেই বিতর্ক থামেনি। রাস্তা পরিদর্শনের সময় এক ব্যক্তিকে চড় মারার ঘটনায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ভার্মা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনার পর তাঁর দফতরের এক ইঞ্জিনিয়ার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং এফআইআর করার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি আপের বিরুদ্ধে উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তবে ভিডিয়োয় ধরা পড়া চড় মারার ঘটনার পাশাপাশি মন্ত্রীর তোলা অভিযোগ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।