নয়া দিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লিতে সরব বিরোধী শিবির। সকাল ১১টা নাগাদ সংসদ ভবনের মকরদ্বার থেকে মিছিল শুরু করেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়্গে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতা। কিন্তু বিরোধী সাংসদদের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধীরা ব্যারিকেডের উপরে উঠে বসেন। পুলিশের তরফে বারবার অবস্থান তুলে নেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তাতে রাজি হননি বিরোধী সাংসদরা। শেষ পর্যন্ত তাঁদের সরাতে শুরু করে পুলিশ। একে একে বেশ কয়েকজন সাংসদকে আটক করে বাসে তোলা হয়।
জানা গিয়েছে, আটক হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ইন্ডিয়া ব্লকের একাধিক সাংসদ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। এরপর পুলিশের ব্যারিকেডের উপর উঠে পড়েন রাহুল গান্ধী। পুলিশ বাসে করে তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক করলেও, ঘুরপথে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন রাহুল গান্ধী। আকাশবাণী ভবনের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন রাহুল গান্ধী। দীর্ঘক্ষণ ধাক্কাধাক্কির পর আকাশবাণী ভবনের ভিতরে ঢুকে পড়েন রাহুল। সেখানেই ধর্না অবস্থানে বসেন রাহুল এবং প্রিয়ঙ্কা গান্ধী।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম চলছে। নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক— বিশেষ করে সংখ্যালঘু এবং দলিত সম্প্রদায়ের মানুষদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলি স্পষ্ট ভাষায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের পরিবর্তে ব্যালট পেপারে ফিরে যাওয়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।
সম্প্রতি সর্বভারতীয় ইংরাজি সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’ একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেখানে দাবি করা হয়, একতরফা ভাবে এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বাকি দুই কমিশনারের আপত্তিতে আমল দেওয়া হয়নি।
শুধু তাই নয়, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন, ভোটার ডেটাবেসে অ্যাক্সেস কেন্দ্রীভূত করা, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন ভোটার যুক্ত করার মতো বিষয় নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। কিছু সিদ্ধান্ত তাঁদের অজ্ঞাতে নেওয়া হয়েছে বলেও দুই কমিশনারের তরফে আপত্তি জানানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
