মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত এইচ-১বি (H-1B) ভিসা ফি বৃদ্ধির পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দিল মার্কিন ফেডেরাল আদালত। বিদেশি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি এক লক্ষ মার্কিন ডলার করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা আদালত খারিজ করে দিয়েছে। এই রায়ে স্বস্তি পেয়েছেন বহু বিদেশি পেশাজীবী, বিশেষ করে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি এবং গবেষণা ক্ষেত্রে কর্মরতরা।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এত বড় আর্থিক পরিবর্তন কার্যকর করার ক্ষমতা প্রশাসনের নেই। সেই কারণেই এই ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আইনসম্মত নয় বলে মত দিয়েছে বিচারপতিদের বেঞ্চ। এর আগে চলতি বছরের ৮ জুন বোস্টনের ইউএস কোর্ট অফ অ্যাপিলও একই ধরনের সিদ্ধান্তে জানিয়েছিল, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া হয়নি।
এই মামলায় ক্যালিফোর্নিয়াসহ মোট ২০টি রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের দাবি ছিল, এইচ-১বি ভিসার ফি হঠাৎ করে এক লক্ষ ডলার নির্ধারণ করা হলে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবায় দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগে বড় বাধা তৈরি হবে। এতে গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নতুন এইচ-১বি ভিসা আবেদনের জন্য এই বিপুল অঙ্কের ফি ধার্য করার ঘোষণা করেছিল। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এর মাধ্যমে ভিসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং দেশীয় কর্মসংস্থানকে উৎসাহ দেওয়া সম্ভব হবে। তবে বিরোধীরা শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক এবং আইনের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেছিলেন।
সাম্প্রতিক আদালতের রায়ের পর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে। প্রশাসনের দাবি, ভিসা নীতিতে পরিবর্তন আনার অধিকার সরকারের রয়েছে এবং সেই অবস্থানেই তারা অনড় থাকবে।
অন্যদিকে, আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবাসী ভারতীয়রা এবং প্রযুক্তি শিল্পের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মী নিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অতিরিক্ত ফি কার্যকর হলে বহু মেধাবী পেশাজীবীর জন্য আমেরিকায় কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে যেত। আদালতের এই রায়ে আপাতত সেই আশঙ্কা অনেকটাই দূর হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের সম্ভাব্য আপিলের দিকে এখন নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।