কলকাতা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: আবার লড়াই ইলিশ-চিংড়ির। রবিবার ডুরান্ড কাপের ফাইনালে আরও একবার মুখোমুখি হচ্ছে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। কলকাতা ডার্বি এমনিতেই বাঙালির আবেগের সঙ্গে মিশে থাকা নাম। তার উপর ঐতিহ্যশালী ডুরান্ড কাপের ফাইনাল। ফলে রবিবাসরীয় যুবভারতীতে যে ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়বে, তা বলাই বাহুল্য। তবে এরই সঙ্গে জুড়তে চলেছে একটি বাড়তি মাত্রা। সব ঠিক থাকলে বিকেল ৫টায় যুবভারতীতে হাজির থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে মাঠে আসার কথা কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্তা-সহ আরও কয়েক জন মন্ত্রীও উপস্থিত থাকতে পারেন।
ডার্বির ইতিহাসে বদলার রংও কম নেই। ২০২৩ সালের ডুরান্ড ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলার দুই প্রধান। এ বারের প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচেও দেখা হয়েছিল দুই দলের। দু’বারই শেষ হাসি হেসেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস। তাই রবিবারের ফাইনাল লাল-হলুদ ব্রিগেডের কাছে নিছক ট্রফির লড়াই নয়। পুরনো হিসাব মেটানোরও মঞ্চ। অবশ্য এ বার ফাইনালে ওঠার রাস্তা দু’দলেরই জন্যই ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। সেমিফাইনালে দুই দলই ভরসা পেয়েছে তাদের গোলকিপারের হাত থেকে। ইস্টবেঙ্গলের প্রভসুখন গিল যেমন দুরন্ত পারফরম্যান্সে দলকে টেনেছেন, তেমনই মোহনবাগানের বিশাল কাইথও হয়েছেন প্রাচীর। ফলে ফাইনালে গোলের সামনে দুই দস্তানার দ্বৈরথও হয়ে উঠতে পারে ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ।
খাতায়-কলমে শক্তির বিচারে অবশ্য কিছুটা এগিয়ে পালতোলা নৌকো। স্বদেশি-বিদেশি মিলিয়ে সব বিভাগেই সবুজ-মেরুনের বেঞ্চ বেশি সমৃদ্ধ। ম্যাকলারেন, মিগুয়েল, অ্যালবার্তোর মতো বিদেশিদের সঙ্গে প্রায় ভারতীয় দলের স্কোয়াডের সমতুল্য শক্তি রয়েছে তাদের। সেমিফাইনালে ম্যাকলারেন ও মিগুয়েলকে কিছুটা সময় খেলিয়ে ম্যাচের ছন্দেও রেখেছেন কোচ। বিপরীতে ইস্টবেঙ্গলের বিদেশি নির্ভরতা তুলনায় কম। রশিদ ছাড়া র্যামিরেজ, ইকোনোমিডিসরা এখনও নিজেদের সেরা ছন্দে পৌঁছতে পারেননি। স্ট্রাইকার পজিশনও চিন্তায় রাখছে কোচ আন্তোনিও হাবাসকে। তবে হাবাস মানেই তো কৌশলের চমক। উইং থেকে বিপিন বা অন্য কাউকে ভিতরে এনে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দিতে পারেন তিনি। এডমুন্ড কিংবা ডেভিডও হয়ে উঠতে পারেন ম্যাচের নায়ক।
তবে মোহনবাগানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ক্লান্তি। মাত্র ৬ দিনে ৩টি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে তাদের। তার মধ্যে একটি আবার পাহাড়ে। ফলে ফাইনালের শেষ দিকে শারীরিক ধকল কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই দেখার। মশাল বাহিনী সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ছবি বদলে যেতে পারে। এক দিকে হাবাসের রক্ষণ-কৌশল, অন্য দিকে মোহনবাগানের তারকাখচিত আক্রমণ। যুবভারতীতে রবিবার তাই শুধু ডার্বি নয়, কৌশল বনাম শক্তিরও লড়াই। আর শেষ বাঁশি বাজার আগে পর্যন্ত এই লড়াইয়ের উত্তাপ যে গ্যালারি ছাপিয়ে গোটা বাংলায় ছড়াবে, তা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই।