কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগে রেশন উপভোক্তাদের জন্য বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের। পুজোর মরশুমে এবার রেশন ব্যবস্থায় চাল, গম বা আটার পাশাপাশি আলাদাভাবে চিনি ও ময়দা দেওয়ার কথা জানাল খাদ্য দফতর। মঙ্গলবার এই ঘোষণা করেছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। একইসঙ্গে রেশনে দেওয়া চিনির মান নিয়েও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তিনি।
পুজো আসতে আর হাতে গোনা কয়েকদিন। ইতিমধ্যেই শহর থেকে জেলা সর্বত্র শুরু হয়ে গিয়েছে উৎসবের প্রস্তুতি। বাজারে কেনাকাটা থেকে শুরু করে পুজোর বিভিন্ন আয়োজন, সবকিছু নিয়েই ব্যস্ততা বাড়ছে। এই আবহে রেশন ব্যবস্থায় চিনি ও ময়দা দেওয়ার ঘোষণা উপভোক্তাদের জন্য বাড়তি স্বস্তির খবর বলেই মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে রেশন কার্ডের ধরন অনুযায়ী উপভোক্তাদের চাল, গম কিংবা আটা দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এবার দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে তালিকায় যুক্ত হচ্ছে চিনি ও ময়দা। খাদ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুজোর সময় রেশন প্রাপকদের আলাদাভাবে এই দুই সামগ্রী দেওয়া হবে।
শুধু চিনি দেওয়ার ঘোষণাই নয়, তার মান নিয়েও বিশেষ আশ্বাস দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে রেশনে যে মানের চিনি দেওয়া হত, এবার তার তুলনায় উন্নত মানের চিনি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ফলে পুজোর সময় রেশন থেকে পাওয়া খাদ্যসামগ্রীর তালিকায় নতুন সংযোজন হতে চলেছে চিনি ও ময়দা।
বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আবেগ। পুজোর সময়ে বহু পরিবারে বাড়তি খরচ হয়। জামাকাপড় থেকে শুরু করে খাবারদাবার উৎসবের প্রস্তুতিতে সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটেও তার প্রভাব পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার ঘোষণা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী এদিন সরকারের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাই মানুষের ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণ করা সরকারের দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যেই খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে চিনি ও ময়দা ঠিক কত পরিমাণে দেওয়া হবে, কোন কোন ধরনের রেশন কার্ডধারী এই সুবিধা পাবেন এবং বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি কী হবে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। সরকারি নির্দেশিকা বা খাদ্য দফতরের পরবর্তী ঘোষণায় এই বিষয়গুলি স্পষ্ট হতে পারে।
এর পাশাপাশি রাজ্যের সড়ক পরিকাঠামো নিয়েও এদিন একটি ঘোষণা করেছেন খাদ্যমন্ত্রী। একটি সভায় তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা বাগদা রোড সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে রাস্তাটিকে চার লেনের জাতীয় সড়কে পরিণত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অর্থাৎ, একদিকে পুজোর আগে রেশন ব্যবস্থায় চিনি-ময়দা যুক্ত করার ঘোষণা, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দুই ক্ষেত্রেই সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক পদক্ষেপের কথা উঠে এল। এখন নজর, পুজোর আগে রেশন উপভোক্তাদের হাতে চিনি ও ময়দা ঠিক কবে এবং কী পরিমাণে পৌঁছয়।
